ঢাকা | বুধবার | ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আইআরজিসি বলছে: মধ্যপ্রাচ্যে ২১টি মার্কিন লক্ষ্যভিত্তি লক্ষ্য করে হামলা, উত্তেজনা তীব্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমরাঙ্গণে নতুনভাবে উত্তেজনা বাড়লো। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বুধবার ভোরে দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে এক পাল্টা অভিযানে মার্কিন বিমানঘাঁটি ও নৌঘাঁটি সহ মোট ২১টি সামরিক লক্ষ্যভিত্তি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। খবরটি প্রথম পরিবেশন করেছে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

আইআরজিসি বলছে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে পরিচালিত অভিযান কুড়িয়ে নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে চারটি “গুরুত্বপূর্ণ” লক্ষ্য ধ্বংস করা হয়েছে। এই চারটির মধ্যে একটি হ্যাঙ্গারে রাখা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতির কথা এবং একটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রও রয়েছে, এমন দাবি করেছে আইআরজিসি।

জর্ডান অবশ্য বলছে, ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। জর্ডানের সেনাবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত হওয়ায় তাদের ধ্বংসাবশেষের কারণে কোনো প্রাণহানি বা সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটিকে ড্রোন হামলায় লক্ষ্য করা হয়েছে এবং বাহরিনে মোতায়েন মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে। সংস্থাটি এসবকে ‘মার্কিন আগ্রাসনের’ জবাব বলে আখ্যা দিয়েছে।

আরেকটি দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিলে অনুপস্থিত ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম এলাকা থেকে উদ্ভূত সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাসমূহের প্রতিশোধমূলক এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, সিরিকে একটি টেলিকম টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং বামানিতে দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে তাদের নৌবাহিনী পঞ্চম নৌবহরের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা শুরু করে এবং বিবৃতিতে বলা হয়েছে ‘সংঘর্ষ এখনও চলছে।’ সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি নতুন কোনো হামলা করা হয় তাহলে আরও কঠোর জবাব দেয়া হবে এবং পরবর্তী পরিস্থিতির দায় মার্কিন বাহিনীকেই বহন করতে হবে।

কুয়েতের সেনাবাহিনী বুধবার ভোরে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ‘শত্রুতামূলক’ আকাশীয় লক্ষ্য প্রতিহত করেছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেশী বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন চালুর ঘোষণা দেয়।

একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হুমকি জবাবহীন থাকবে না। তিনি আরও জানান, ‘‘যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরোও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’ আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যাও।’’

ঘটনাসমূহ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতি ও দাবি প্রকাশিত হচ্ছে; আইআরজিসির সব দাবি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যেতে পারে। পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল থাকায় ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত ও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।