ঢাকা | সোমবার | ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাল মার্কিন ডলার রিজার্ভ আবারও ছাড়াল ৩১ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিং বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে এই রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে, দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের হিসাব মতে এই সংখ্যা ছিল ২৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব রয়েছে, যেখানে এই সংখ্যা ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রিজার্ভের বৃদ্ধি মূলত প্রবাসী আয়, রফতানি অর্থ, বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ দ্বারা পরিচালিত। দেশে বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়নি, বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, আর ২ সেপ্টেম্বর আট ব্যাংকের কাছ থেকে ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক নির্দেশ করবে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশের মোট অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বহন করছে। আগস্টের পুরো মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড। সামগ্রিকভাবে, গত বছরে প্রবাসী আয় ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, দশ বছর আগে ২০১৩ সালের জুন শেষে দেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। সেই সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে this অর্থনীতি গতিপথে এগিয়ে এসেছে। ২০২০ সালে এই পরিমাণ ৩৯ বিলিয়নে পৌঁছে যায়, এরপর কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও এই সংখ্যা আরও বেড়ে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তবে এরপর থেকে রিজার্ভে কিছুটা কমে আসছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শেষে রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।