ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বিশ্বকাপে মেসি ভাঙতে পারেন পাঁচটি বড় রেকর্ড

কয়েক মাস আগেও එක් প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছিল — লিওনেল মেসি কি আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবেন? সব জল্পনা কেটে এখন তিনি আছেন কাতারে এবং শুধু খেলার জন্যই নয়, অনেক বড় কীর্তি গড়তে নামেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

মেসির হাতে এখনও কিছু উল্লেখযোগ্য রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে। চলুন দেখিই কোন কোন রেকর্ডগুলো তার লক্ষ্যভূমি।

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ: মেসির নাম ইতিমধ্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে রয়েছে — ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালে মিলিয়ে তিনি খেলেছেন ২৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচ। এবারে আরেকটি বিশ্বকাপ যোগ হওয়ায় সেই সংখ্যা আরও বাড়বে এবং রেকর্ড আরও শক্ত হবে।

ছক্কার ছয়টি বিশ্বকাপ: এই টুর্নামেন্টে মেসি অংশ নিলে এটি তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ হবে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকোর গোলরক্ষক গুলেরমো ওচোয়াও-ও এবার তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলবেন। এই তিনজনের বাইরে আর কেউ ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন না।

সবচেয়ে বেশি গোলের দৌড়: বিশ্বকাপ মঞ্চে এখন পর্যন্ত মেসির গোল সংখ্যা ১৩। ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার আছে ১৬ গোল নিয়ে। মেসিকে ক্লোসারকে টপকাতে চারটি গোল আরও করতে হবে — এমনটা হলে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে উঠবেন। এমন কীর্তি গ্রুপ পর্বেই সম্ভব, যদিও তা সহজ কাজ নয়।

পাঁচটি পৃথক বিশ্বকাপে গোল: মেসি ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালে গোল করেছেন; ২০১০ ছাড়া সবগুলোতে তিনি স্কোর করেছেন। এইবার যদি তিনি গোল করেন, তাহলে রোনালদোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়বেন।

অ্যাসিস্ট রেকর্ড: বিশ্বকাপে মেসির এখন পর্যন্ত আটটি অ্যাসিস্ট আছে — এটি আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে যুগ্ম শীর্ষস্থান। এই টুর্নামেন্টে একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলতে পারবেন, আর দুইটি অ্যাসিস্ট করলে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টকারী হিসেবে এককভাবে শীর্ষে থাকবেন।

অধিনায়ক হিসেবে কীর্তি: ইতিহাসে এখনও এমন কোনো খেলোয়াড় নেই যিনি অধিনায়ক হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন—যদি মেসি এবার চ্যাম্পিয়ন হন, তাহলে তিনি এই বিরল পরিচয়ে একক হয়ে যাবেন। পাশাপাশি, যদি আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টে ফাইনালে উঠে, তাহলে মেসি তিনবার অধিনায়ক হয়ে দলকে বিশ্বকাপ ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার ইতিহাস রচনা করবেন (২০১৪ ও ২০২২ ইতোমধ্যে)।

সব মিলিয়ে, কাতারে মেসি যে কেবলই খেলতে এসেছেন তা নয় — অতীতের রেকর্ডগুলোতে নতুন অধ্যায় যোগ করার সম্ভাবনা তারই কাঁধে। ফুটবলপ্রেমীরা gespannt থাকবে যে কাহিনীটা কিভাবে লেখা হবে।