ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচিত ‘রেড টেলিফোন’ সংযোগের তামার তার কেটে নেওয়ার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের একজন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী, আর একজন ভাঙারি ব্যবসায়ী। তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া তামার তারও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার দুজনের নাম রঞ্জন চন্দ্র (২৫) ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম (৩২)।
এই ঘটনা দেখা দেয় কোরবানির ঈদের ছুটির পরে। ২৫ মে থেকে সরকারি ছুটি শেষ হয়ে গত সোমবার সচিবালয় খুললে দায়িত্বশীলরা দেখেন প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন। বিষয়টি জানালে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। বিটিসিএলের একটি কর্মকর্তা জানান, রেড টেলিফোনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের যে কোনো স্থানে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে বলা হয়, সচিবালয়ের পুরনো ১ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত টানানো কপার কেবলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের টেলিফোন সংযোগ বজায় রাখা হতো। ভবনের ছাদে রাখা ওই কপার কেবল কেটে নেওয়ায় এসব সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট আজ দুপুরে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন স্বীকার করেন, গত ২২ মে তিনি সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তামার তার কাটেন। পরে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন।
রঞ্জনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একুশে হল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রেজাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রেজাউলের দেখানো স্থানে—চকবাজারের হোসেনী দালান রোডে থাকা একটি ভাঙারির গোডাউন থেকে চুরি করা তামার তার উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরিতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। ডিএমপি জানিয়েছে, চক্রের অন্যান্য সদস্য ও হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে তদন্ত চলছে। উদ্ধারকৃত তামার তার ও গ্রেপ্তারের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




