ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

দেশ গড়তে প্রত্যেকের সচেতনতা জরুরি: তারেক রহমান

বিএনপির সিনিয়র যুগ্মচেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশ কারও একার নয় — না কোনো সরকারের, না কোনো রাজনৈতিক দলের, না কোনো পরিবারের বা ব্যক্তির। দেশটি লাখো কোটি মানুষের; তাই দেশ গড়তে প্রত্যেককে নিবেদিতপ্রাণ ও সচেতন হতে হবে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাজধানীর জুরাইনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানত এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

এলাকার মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যদি আপনি এই এলাকার বাসিন্দা হন, তাহলে সম্ভব হলে আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলবেন না। ছোটখাটো আবর্জনাও সঠিকভাবে ফেলার চেষ্টা করুন — তা এক যুগল টিস্যুর কাগজ, বাদামের খোসা বা খাবারের কিছু প্যাকেটই হতে পারে। এক ব্যক্তি কিছু না করলে মনে হতে পারে কোনো বড় সমস্যা নেই, কিন্তু প্রতিজন যদি এক কেজি করে আবর্জনা ফেলে, তাহলে ঝটপট হাজার হাজার কেজি ময়লা জমে যাবে। তিনি উদাহরণস্বরূপ বললেন, যদি চারিদিকে হাজার জন মানুষ প্রত্যেকে এক কেজি করে ময়লা ফেলে, তাহলে সেটি ১০ টন পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।

তারেক রহমান আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও মানুষ; তারা মজুরি হিসেবে গরিব মানুষেরাই। যদি আমরা সবাই একটু সচেতন হই এবং নিজেরাই জায়গাটি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করি, তাহলে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজও অনেক সহজ হবে এবং তাদের কষ্ট কমবে। এর ফলে আপনার সন্তান, বাবা-মা ও পরিবার সবাই একটি পরিষ্কার ও সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।

তিনি টিভিতে বিদেশের পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট দেখলে যে ঈর্ষা কাজ করে, সেটির কথাও তুলে ধরে বলেন, অন্য দেশে রাস্তাঘাট স্বচ্ছ ও ঝকঝকে থাকে—এটা কোনো পক্ষ থেকে করে দেওয়া হয় না, সেখানে জনগণও যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলে না। আমাদেরও একই মনোভাব নেয়ার দরকার।

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, এই কাজ করার জন্য সরকার বা কোনো জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রয়োজন নেই— na এমপি, মন্ত্রী বা মেয়র হওয়ার দরকার নেই। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজে থেকেই ছোট ছোট কাজ করলে পরিবেশ অনেক সুন্দর তোলা যাবে। টিস্যু, ছেঁচা প্যাকেট বা বাদামের খোসা—সবকিছু এক জায়গায় ফেলা হলে পরিবেশ অগোচরে অদ্ভুত সুন্দর থাকে।

তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভাষ্য দিয়ে বলেন, যদি আপনার শার্টে কোনো দাগ পড়ে বা আপনি ময়লা কাপড় পরে থাকেন, তখন নিজেকে খারাপ লাগবে — ঠিক তেমনি, গৃহস্থালি বা সড়কজুড়ে ময়লা থাকলেই সেখানেই থাকতে আরাম হবে না। তাই সবাই যদি নিয়ম করে সহযোগিতা করে, ইনশাআল্লাহ আমাদের দেশকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে তোলা সম্ভব।

শেষে তিনি আবারও উল্লেখ করেন, দেশ কারও একার নয়; এটি ২০ কোটি বা তারও বেশি মানুষের, প্রত্যেকের—এ জন্য দেশ গড়তে আমাদের প্রত্যেককেই সচেতন হতে হবে ও ছোট ছোট উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে হবে।