ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আইসিসি ভাবছে—ওয়ানডেতে ড্রিঙ্কস ব্রেকে কোচ মাঠে, টেস্টে বল বদলের সুযোগ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আরও গতিশীল ও কৌশলগত করতে একাধিক বড় পরিবর্তন নিয়ে ভাবছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ওয়ানডেতে ড্রিঙ্কস ব্রেকে হেড কোচ মাঠে ঢুকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাত্ক্ষণিক নির্দেশনা দিতে পারবেন এবং টেস্টে দুই দলের সম্মতিতে বল বদলের সুযোগ রাখা হতে পারে। এসব পরিবর্তন আগামী ৩০ মে ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি বোর্ড সভায় অনুমোদিত হলে শিগগিরই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রস্তাবিত বদলে অনুযায়ী, ম্যাচের ড্রিঙ্কস ব্রেকের সময় হেড কোচ মাঠে নেমে দলকে কৌশলগত নির্দেশনা দিতে পারবেন। বর্তমানে ওয়ানডেতে মাঠে প্রবেশের অধিকার থাকে কেবল বদলি খেলোয়াড় ও ড্রিঙ্কস বহনকারী স্টাফদের। নতুন নিয়ম চালু হলে কোচরা সরাসরি খেলোয়াড়কে পরামর্শ দিয়ে ম্যাচের সিদ্ধান্তে তাত্ক্ষণিক ভূমিকা রাখতে পারবেন। আইসিসি মনে করছে এধরনের পরিবর্তন ম্যাচের কৌশলগত গুণগতমান বাড়াবে। তবে এখনো পরিষ্কার নয়—মাঠে ঢোকার সময় কোচদের দলের জার্সি পরতে হবে কি না বা নির্দিষ্ট সময়সীমা হবে কি না।

আরেকটি বড় প্রস্তাব টেস্ট ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে। আবহাওয়া বা আলোজনিত সমস্যার কারণে দরকার হলে চলমান টেস্ট ম্যাচে লাল বলের বদলে পিঙ্ক বল ব্যবহার করার অনুমতি দিতে পারে আইসিসি—শর্ত হবে দুই দলের সম্মতি। মূলত ডে-নাইট কন্ডিশন বা হঠাৎ আলো কমে গেলে খেলা চালিয়ে নিতে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই ভাবা হচ্ছে। তবে ম্যাচের মাঝপথে কিভাবে লাল বল থেকে পিঙ্ক বল চালু করা হবে, সেই প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তাজনিত দিকগুলো এখনও পরিষ্কার করা হয়নি; আইসিসি অনুমোদন দিলে বিস্তারিত জানানো হবে।

টি-টোয়েন্টিতেও একটি পরিবর্তন আনা হতে পারে: দুই ইনিংসের মধ্যে চলমান ২০ মিনিটের বিরতিটি কমিয়ে ১৫ মিনিট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আইসিসি বলছে, বিরতি কমালে ম্যাচের গতি বাড়বে এবং দর্শকের মনোযোগ বজায় থাকবে। এতে দলগুলোকে কৌশল সাজানো ও বিশ্রামের জন্য পাঁচ মিনিট কম সময় দিতে হবে।

আইসিসি অন-ফিল্ড আম্পায়ারদের জন্য হক-আই (Hawk-Eye) ডেটার ব্যবহার বাড়ানো নিয়েও ভাবছে, যাতে সন্দেহজনক বা অবৈধ বোলিং অ্যাকশন দ্রুত শনাক্ত করা যায়। হক-আই ডেটা প্রয়োগ করলে ম্যাচ চলাকালীন আম্পায়ারদের কাছে বাড়তি তথ্য পৌঁছে যাবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রস্তাব আইসিসি বোর্ডে আনুমোদিত হলে পরবর্তীতে বিস্তারিত নিয়ম এবং প্রয়োগ সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে। আপাতত সবকিছু প্রস্তাব পর্যায়ে আছে এবং ফাইনাল অনুমোদন আর নীতিনির্ধারণ বোর্ড সভার পরেই নিশ্চিত হবে।

আইসিসি’র এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কৌশলগত দিক, দর্শকসুখী গতি এবং প্রযুক্তি নির্ভর সিদ্ধান্তগ্রহণে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনেকে বলছেন, বিভিন্ন নিয়ম চালুর সময় খেলার মৌলিক ধারাকে রক্ষা ও খেলাধুলার ন্যায্যতা বজায় রাখা জরুরি, তাই প্রস্তাবনাগুলি প্রয়োগের আগে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলোচনার দাবি ওঠবে।