ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

মিরপুরে রামিসা হত্যা: পুলিশের ধারণা—সম্ভাব্য যৌননির্যাতন, প্রধান অভিযুক্ত ও স্ত্রী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুরে সাত বছরের ছোটছাত্রী রামিসা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে পুলিশ তদন্তে এগোচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটি সম্ভবত যৌননির্যাতনের শিকার হওয়ার পর হত্যা করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পুলিশ বলছে, মঙ্গলবার সকালবেলায় রামিসার মা তাকে স্কুলে পাঠাতে না পেয়ে মেয়েকে খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি বাড়ির দরজার সামনে একটি জুতা দেখেন এবং পাশের ফ্ল্যাটে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে ভেবে সেখানে কোনোরা দেখতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দরজায় বারবার ধাক্কা-মারার পরও ভিতর থেকে কেউ দরজা খুলেনি। চিৎকার-চেঁচামেচিতে আরও লোক জড়ো হলে সবাই মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে রামিসার দেহ পাওয়া যায়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস.এন. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। অভিযুক্ত মূল ব্যক্তি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশ জানায়। ভেতরে গিয়ে দেখা যায় দেহে জখমের ও আঘাতের চিহ্ন ছিল; সম্ভবত মরদেহ লুকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই এসব করা হয়েছিল।

পুলিশ বলছে, প্রযুক্তিগত সহায়তায় ঘটনার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নির্যাতনের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া যাবে—এটাই পুলিশের ফিরে বলার কথা।

অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না অভিযোগ করেছেন যে তার স্বামী বিভিন্ন সময় তাকে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করতেন এবং অভিযুক্তের বিষয়ে পরিবার-পরিজনদের বদনাম না ছড়াতে তিনি দরজা দীর্ঘক্ষণ না খুলে ছিলেন। পুলিশি বর্ণনায় অভিযুক্তকে ‘সোহেল রানা’ নামে উল্লেখ করা হলেও কিছু বক্তব্যে ‘জাকির হোসেন’ নামে উল্লেখও আছে; এই তথ্যগত ভিন্নতা তদন্তে স্পষ্ট করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কথিতভাবে সহকারীগ্রেপ্তার হিসেবে স্বপ্নার নামও উঠছে; পুলিশ তদন্তের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেবে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পরই ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে।