ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

পাজের পদত্যাগ দাবিতে লা পাজে বাসভবন ঘেরাও, রাজধানী রণক্ষেত্রে পরিণত

বলিভিয়ার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রুদ্রিগো পাজের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী লা পাজ রণক্ষেত্রের মতো হয়ে উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সোমবার আরও তীব্র আকার নিলো; বিক্ষোভকারীদের ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

সাউন্ড গ্রেনেডের গড়গড় শব্দে কাঁপছে শহর, কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় ঝাপসা হয়ে আছে রাজপথ। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে নামানোর দাবি জানিয়ে প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেয় এবং সরকারি স্থাপনার চারপাশে বিক্ষোভ পরিচালনা করে।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে পাজ প্রশাসন রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে — জ্বালানি সংকট, দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের ঘাটতির ফলে দেশের অর্থনীতি বড় মন্দার মুখে পড়েছে। সোমবার বাসভবন ঘেরাও করতে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দাঙ্গার রূপ নেয়।

এক একজন বিক্ষোভকারী বলেন, “প্রেসিডেন্টকে আমরাই ক্ষমতায় তুলেছি। তিনি যদি রাষ্ট্র চালাতে না পারেন, তাকে পদত্যাগ করা উচিত। তিনি আমাদের বিরুদ্ধে পুলিশের পাখা রোঝানি করেছেন।”

বিক্ষোভে শ্রমিক, কৃষক, খনি শ্রমিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিয়েছে। খনি শ্রমিকরা বিস্ফোরক এবং জ্বালানি সরবরাহসহ খনি নীতিতে পরিবর্তন চেয়েছেন। অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরাও জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহের বিপর্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির প্রতিবাদ করছেন।

উত্তর দমন করতে গিয়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ব্যবহার করে বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে তেড়ে আসে; সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে তারা প্রেসিডেন্টবিরোধী স্লোগান দেয়—শহরের অনেক জায়গা একরকমভাবে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকেরা এই আন্দোলনকে অর্থায়ন করছেন। চলমান অস্থিরতার কারণেই জ্বালানি, খাদ্য ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহন ব্যহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ কঠিনভোগে পড়েছে এবং অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

একদিকে রাজধানীর বানোয়াট উত্তেজনা, অন্যদিকে দৈনন্দিন জীবনে ক্রমশ বাড়তে থাকা সংকট—এই মিশ্র পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলে চাপ বেড়েই চলেছে; উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সংলাপে বসার এবং নাগরিকদের কষ্ট কমানোর জন্য দ্রুত সমাধান খোঁজার আহ্বান করা হচ্ছে, তবু তৎক্ষণিক কোনো সমাধানের দেখা মেলেনি।