ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে WTC টেবিলে পাঁচে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুই টেস্ট জয়ে কেবল সিরিজই জিতল বাংলাদেশ না—বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলেও বড় ছাপ ফেলেছে শান্ত নেতৃত্বাধীন দল। মিরপুর ও সিলেটে ধারাবাহিক পাত্তাই বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ বৃদ্ধি করে ২০২৫–২৭ চক্রের ডব্লিউটিসি টেবিলে দলকে পাঁচ নম্বরে নিয়ে গেল।

দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২–০ হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ নিশ্চিত করে। প্রথম টেস্টে মিরপুরে তারা জিতেছিল ১০৪ রানে, আর সিলেটের দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে পরাজিত করে জয় নিশ্চিত করলো নাজমুল হোসেন শান্তের দল। ধারাবাহিক জয়ের ফলে বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ (PCT) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮.৩৩, যা উপকারে এনে দিয়েছে তাদের ভারতকে ছাড়িয়ে পাঁচে উঠতে।

ইতিবাচক এই উত্থানে পিছিয়ে গেছে ভারত; তাদের PCT এখন ৪৮.১৫। পাকিস্তানের দরিদ্র অবস্থা আরও তীব্র—সিরিজ হারের পর তারা নেমে গেছে আঠ নম্বরে, PCT মাত্র ৮.৩৩; তাদের নিচে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজ আছে। টেবিলের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া আছে (PCT ৮৭.৫০), তার পরে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা আছে দু’ ও তিনে।

সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল বড়—৪৩৭ রান। চতুর্থ ইনিংসে তারা সংগ্রাম করলেও শেষে ৩৫৮ রানে অলআউট হয়। পঞ্চম দিনের সকালে দল যোগ করতে সক্ষম হয়েছিল মাত্র ৪২ রান; এরপর মাত্র ১৩ বলের মধ্যে পাকিস্তান হারায় শেষ তিন উইকেটে ছন্দপতন এবং ম্যাচটি বাংলাদেশ ছিনিয়ে নেয়।

বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তিনি দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪.২ ওভার বল করে ১২০ রান খরচা করে নেন ৬ উইকেট—নির্ণায়ক ভূমিকা রেখে দলের জয় নিশ্চিত করেন। আর সঙ্গে ছিল শরিফুল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অবদান; তিনি ফেরান ৯৪ রানে একমাত্র শক্তিশালী ভরসা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। রিজওয়ান ১৬৬ বলে ৯৪ রান করে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত দলের আশা জিইয়ে রাখতে পারেননি।

এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় বার টেস্ট সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করল—আগেও ২০২৪ সালে একই ফল হয়েছিল। দেশে এনে সিরিজ জেতায় শান্তের শাসনে দল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ দৌড়ে আরও শক্ত অবস্থান পেয়েছে।

এই ফলাফল বাংলাদেশের জন্য কেবল মর্যাদা নয়, ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার একটি বড় প্যাসে সাজিয়েছে। দল এখন অনেকটাই আত্মবিশ্বাসে ভর করে এগোতে পারবে, আর WTC প্রতিপক্ষদের মুখে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বুক বাঁধতে পারে।