ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা প্রকাশ করেছেন চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম সোমবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি রাখেন, তবে তাতে আস্থা রাখতে চান তিনি। একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বতী সরকারের স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে “গোলামীর চুক্তি” ঘোষণা করে তা বাতিলের দাবি জানান।

পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম। সভায় তিনি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন — ঢাকা উত্তরে ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ ও দক্ষিণে ইসলামী আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হলেও এইবার আইনের পরিবর্তনের কারণে নির্বাচন নির্দলীয় পদ্ধতিতে চলবে। ফলে দলগুলো সরাসরি প্রার্থী মনোনয়ন করতে পারবে না; তবুও পার্টিগুলো তফসিল ঘোষণার আগে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে চলেছে।

সভায় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় চরমোনাই পীর ছাত্রীর উইং গঠন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সহ বিভিন্ন ইস্যুতে মন্তব্য করেন। তিনি জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, সমঝোতায় নতুন দলের সংযুক্তি ও আসন-বণ্টনের ক্ষেত্রে জামায়াতের একতরফা সিদ্ধান্ত, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক, ইসলামী বিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনা না করা এবং মুসলিম লিডারদের বিরুদ্ধে আমেরিকান বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রবাদী আখ্যা দেওয়া—এসব কারণে সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর নানা প্রচেষ্টা থাকলেও তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি, যোগ করেন তিনি।

রেজাউল করীম স্পষ্ট করে বলেন, তিনি এমপি বা মন্ত্রিত্বের রাজনীতি করেন না; তিনি ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে অটল থাকবেন। ভবিষ্যতে একই মাপকাঠি ও নীতির ওপর ভিত্তি করে কারো সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া সম্ভাব্য বলে জানান তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, বিজেপির কর্মকাণ্ড কোনো সভ্য রাষ্ট্রের মান বজায় রাখে না এবং তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি মারাত্মকভাবে ক্ষুণœত হচ্ছে; ভারতের এই বর্বরতা থামানো জরুরি।

প্রসঙ্গত, একই দিন তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশ ঈদ-তারিখ ঘোষণা করেছে।