ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বয়স কমানোর ইনজেকশনেই কি শেফালির মৃত্যু? স্বামী পরাগ ত্যাগী জানালেন সত্য

‘কাঁটা লাগা’ খ্যাত অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। বিশেষ করে বয়স কমানোর ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই মৃত্যুর কারণ— এমন দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঠে। এসব গুজবে এবার সরাসরি জবাব দিয়েছেন শেফালির স্বামী পরাগ ত্যাগী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরাগ স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘‘বয়স কমানোর ইনজেকশন—এটার যে খবর তা সম্পূর্ণ মিথ্যে। আমরা তো সব কিছুই খাই। শেফালি মারা যাওয়ার আগের দিনও আমরা চাইনিজ খাবার খেয়েছিলাম। ও তো বেশ ফিট ছিল; না খেয়ে থাকার কী দরকার? না খেলে মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যেতো।’’

বয়স ধরে রাখার উদ্দেশ্যে ইনজেকশনের কথায় পরাগ আরও অনুরোধ করেন, ‘‘ওর আরও ফর্সা চামড়ার কী দরকার ছিল? দয়া করে বলুন, কোন ইনজেকশন বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে। যদি সত্যিই এমন কোনো জিনিস থাকত, তাহলে রতন টাটা আজও বেঁচে থাকতেন।’’

পরাগ গুজব বন্ধ রাখতে সকলকে অনুরোধও করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার থামানো উচিত—এগুলো পরিবারের উপর শোককে আরও কষ্টদায়ক করে তোলে।’’

প্রসঙ্গত, গত বছর শেফালি জারিওয়ালা মারা যান। জানা গেছে, মৃত্যুর দিন তিনি সত্যনারায়ণ পূজার কারণে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপোস ছিলেন। উপোস ভাঙার পর ফ্রিজ থেকে সামান্য কিছু খেয়েছিলেন; কিন্তু ক্লান্ত শরীরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাননি। সেই রাত সাড়ে দশটার দিকে আচমকা জ্ঞান হারান তিনি। পরিবারের তাড়াহুড়োতে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা গেছেন।

শোবিজ কেরিয়ার শুরুতেই মডেলিং করেছেন শেফালি; প্রায় ৩৫টি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন তিনি। বলিউডে তাঁর অভিষেক ছিল ২০০৪ সালে—ছোট একটি ক্যামিও চরিত্রে ‘Mujhse Shaadi Karoge’ ছবির মাধ্যমে। ব্যক্তিগত জীবনে শেফালির নাম একাধিক পুরুষের সঙ্গে জড়িয়েছে। ২০০২ সালে প্রথম বিয়ে হলেও সে সংসার স্থায়ী হয়নি; মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ এনে তিনি পরে ওই সংসার থেকে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।

বিচ্ছেদের পর কিছু সময় ব্যক্তিজীবন নিয়ে শান্ত জীবন কাটান শেফালি। পরে পারাগ ত্যাগীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান; দু’জনই এক সময়ে ‘বিগ বস ১৩’-এ অংশ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সংসার গড়েন। পরিবার ও ঘনিষ্টদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল সুখী।

পরাগের এই স্পষ্ট বিবৃতির ফলে শেফালির মৃত্যু সংক্রান্ত বয়স কমানোর ইনজেকশন সম্পর্কিত গুঞ্জনগুলোকে ভোট দিয়ে সমাপ্তি টানার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানাতে এবং অবৈধ গুজব না ছড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।