ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশ–ভারত: পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালুর পথে

প্রায় দেড় বছর সংগ্রাম পর সীমিত হওয়া কূটনীতিক যোগাযোগ মেরামতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত এখন পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। শনিবার (২ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করেছে এবং ভারতের পক্ষ থেকে ধাপে ধাপে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন এই পদক্ষেপ দুদেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতের সফরে ভিসা স্বাভাবিকীকরণকে ঢাকার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিক্য হিসেবে তুলে ধরেন। সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই ও চেন্নাইর ভিসা কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু রয়েছে।

দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়া ভিসা কার্যক্রম ফেব্রুয়ারি থেকেই পুনরায় শুরু হয়েছে। ওই সময়ে প্রায় ১৩ হাজার ভারতীয় নাগরিককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে—ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক ভ্রমণ—ভিসা দেওয়া হয়েছে।

দুই দেশের কূটনৈতিক মোড় ঘোরানোয়ার অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিক্রম মিশ্রিসহ ঢাকা সফর করেন এবং কর্মকর্তারা বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন। ওই সফরে ভিসা ব্যবস্থার স্বাভাবিককরণ বিষয়ে সমন্বয় বাড়ানো হয়।

প্রতিবেদনে পুরানা প্রসঙ্গও উল্লিখিত হয়েছে — ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর ফলে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যেই উত্তেজনা দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক মেরামতের অভিপ্রায়ে পদক্ষেপ শুরু করা হয়। এরপর নতুন সরকার দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেয়।

ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা সংশয় থাকায় তারই মধ্যে ভিসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত ছিল, তবুও জরুরি চিকিৎসা বা পারিবারিক প্রয়োজনের কেসগুলো কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে চালান হয়েছে এবং পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়নি। এখন ধীরে ধীরে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভিসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য বহুমুখী সহযোগিতা বাড়বে বলে কূটনৈতিক মহলের দর্শন। দুই দেশের ব্যবসায়ী, পর্যটক ও পরিবারের জন্য যাতায়াত সহজ হলে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।