ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ভূমধ্যসাগরে নৌকা বিকল: ২৬ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা

উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপগামী একটি নৌকা বিকল হয়ে আট দিন ধরে ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর পানিশূন্যতা ও খাদ্যসংকটের কারণে অন্তত ১৭ অভিবাসীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে; আরও নয়জন নিখোঁজ থাকায় মোট ২৬ জনের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনায় সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার শিকাররা মূলত সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। তাদের নৌকা মিশরের সীমান্তঘেঁষা লিবিয়ার পূর্ব তোবরুক শহরের উপকূলের কাছে চিকিৎসা ও ত্রাণ কর্মীদের দ্বারা উদ্ধার করা হয়। রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় উদ্ধারকার্য চালায়।

উদ্ধারকারীরা জানান, আট দিন সমুদ্রে ভাসার ফলে বিশুদ্ধ পানীয় ও খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং তারা মারা যান। উদ্ধারকাজের সময় তোলা ছবিতে দেখা গেছে মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে পিকআপে বোঝাই করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিখোঁজ নয়জনের মরদেহ তীরে ভেসে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনায় মৃতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপগামী অভিবাসীদের একটি প্রধান ট্রানজিট পথ—অনেকেই যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও মানবাধিকার সংকট থেকে পালিয়ে মরুভূমি ও সমুদ্র পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই পথ বেছে নেন।

এদিকে ত্রিপোলির অ্যাটর্নি জেনারেল মঙ্গলবার জানিয়েছেন, পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারা এলাকায় একটি ‘অপরাধী চক্র’-এর চার সদস্যকে মানবপাচার, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে সর্বোচ্চ ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসূত্রে বলা হয়, তোবরুক অঞ্চল থেকে একটি ভাঙাচোরা নৌকায় অভিবাসীদের পাঠানোর অভিযোগে আরেকটি চক্রকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে; একই ধরনের নৌকাপ্রচলে একটি ভূষণীয় সুনামহানির কারণে আগে ৩৮ জন সুদানি, মিশরীয় ও ইথিওপীয় নাগরিকের মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনা আবারও মানুষের পেশাদারি পাচার চক্র ও অঠটভয়ের পথে রফতানির ভয়াবহতা সামনে এনে দিল। আন্তর্জাতিক দাতাবৃন্দ এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং লিবিয়ায় বাসস্থানের শর্ত, সীমান্ত নজরদারি ও উদ্ধার সক্ষমতা উন্নয়ন করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।