ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচি

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মগবাজারের জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে সেই ঘোষণা আসে।

ব্রিফিংয়ে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; কিন্তু গণভোটে জনগণের কাছে যে সিদ্ধান্ত এসেছে — প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে — তা সরকার উপেক্ষা করছে। তিনি সরকারের চলমান কর্মপন্থাকে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ‘‘ছলচাতুরি’’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বসেছে।

হামিদুর রহমান আযাদ সভার পর জানায়, নতুন কর্মসূচির সূচনা হবে ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ থেকে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত সমাবেশ সূচি যথাক্রমে:

১৬ মে — রাজশাহী

১৩ জুন — চট্টগ্রাম

২০ জুন — খুলনা

২৭ জুন — ময়মনসিংহ

১১ জুলাই — রংপুর

১৮ জুলাই — বরিশাল

২৫ জুলাই — সিলেট

তিনি জানান, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি বিভাগীয় সমাবেশ রাখা হয়েছে; ঈদের ছুটির পর জুন থেকে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় আন্দোলন ও সমাবেশ শুরু হবে। বিভাগীয় স্তরের এই সমাবেশগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সমাবেশের পাশাপাশি ১১ দল ব্যক্তি ও পেশাভিত্তিক মতবিনিময় সভার মধ্যেও কার্যক্রম চালাবে। বিশেষত শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতার মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে। পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারও চলমান থাকবে, দাবি করেন সমন্বয়ক।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘‘জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে; এ’র বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে।’’ তিনি ছাত্রসমাজকেও এই আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

হামিদুর আরও উল্লেখ করেন যে, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি নিয়ে বর্তমানে জোটের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। ইতোমধ্যে ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে ১১ দল গণমিছিল করেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।