ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

এশিয়ার জলসীমায় ইরানের তিনটি ট্যাংকার জব্দ করল মার্কিন বাহিনী

যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর একদিন পরই মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার আশেপাশের গভীর সমুদ্র থেকে ইরানের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)। জব্দকৃত জাহাজগুলোর নাম—ডিপ সি, সেভিন ও দোরেনা।

আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। সেন্টকম জানিয়েছে, তিনটি জাহাজেই পর্যাপ্ত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ছিল।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জাহাজগুলো ঠিক কোথায় জব্দ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েনি। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ সংস্থা মেরিন ট্র্যাফিক জানিয়েছে, জাহাজগুলো ভারত মহাসাগরের কোনো এক অঞ্চলে জব্দ করা হয়েছে—যা ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ডের কাছাকাছি।

ডিপ সি ইরানের একটি সুপারট্যাংকার; জব্দের সময় এটি আংশিকভাবে তেল ভর্তি ছিল। মেরিন ট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ডিপ সিকে সর্বশেষ গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

দ্বিতীয় জাহাজ সেভিন জব্দের সময় এতে ছিল প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল, যা জাহাজটির মোট ধারণক্ষমতার আনুমানিক ৬৫ শতাংশ। মেরিন ট্র্যাফিক জানায়, সেভিনকে সর্বশেষ এক মাস আগে মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

তৃতীয় ট্যাংকার দোরেনা সম্পূর্ণভাবে লোডেড অবস্থায় জব্দ করা হয়; তাতে জব্দের পর পাওয়া গেছে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। দোরেনাকে সর্বশেষ তিন দিন আগে ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি দেখা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হলে পরদিন ১২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জারির ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে না আসা পর্যন্ত দেশটির বন্দরগুলো থেকে কোনো ইরানি জাহাজ বের হতে পারবে না এবং বাইরের কোনো জাহাজ ইরানে প্রবেশও করতে পারবে না।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ট্রাম্পের অবরোধ ঘোষণা জারি হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলো থেকে প্রস্থান করা ২৯টি জাহাজ ও নৌযানকে ফের বন্দরে ফিরিয়ে পাঠিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

সূত্র: রয়টার্স