ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

হরমুজ প্রণালীতে আইআরজিসি দুই কন্টেইনার জাহাজ জব্দ

শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের বিপ্লবী garde বাহিনী (আইআরজিসি)। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা গেছে, আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকালে এই ঘটনা ঘটেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

আইআরজিসি নৌ-শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় ‘আইন লঙ্ঘনকারী’ হিসেবে দুইটি জাহাজ শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। আটককৃত জাহাজ দুটোকে বর্তমানে ইরানের উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জাহাজ দুটির নাম জানানো হয়েছে — পানামার পতাকাবাহী ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এপামিনোডাস’।

মেরিটাইম ট্র্যাকিং সাইট মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, জাহাজ দুটির সর্বশেষ অবস্থান ওমানের উত্তর-পূর্বে, ইরানি উপকূলের কাছাকাছি ছিল।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে এক কন্টেইনার জাহাজকে লক্ষ্য করে আইআরজিসি বোট থেকে গুলি চালানো হয়। এতে জাহাজটির ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক জানায়, ওই ঘটনায় আরো একটি কন্টেইনার জাহাজ ‘ইউফোরিয়া’কে আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে গুলি করে থামিয়ে রাখা হয়।

ঘটনাটি কেন্দ্রীয় ভূ-রাষ্ট্রনীতিতে পুরোনো একটা বিতর্ককে তীব্র করেছে — পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের লড়াই। বরাবরই এই নৌপথটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়।

রিপোর্টগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামুদ্রিক উত্তেজনা বরাবরের মতোই তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী বলছে তারা ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী কিছু জাহাজকে নজরদারি ও প্রয়োজন হলে বাধা দিচ্ছে; অন্যদিকে তেহরান ঘোষণা করেছে যে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ বা ত্যাগের জন্য হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারীদের তাদের অনুমতি নিতে হবে।

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ও বাণিজ্যশিল্পের অংশী জনেরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে এই ধরনের উত্তেজনা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনের উপর প্রভাব পড়তে পারে। ঘটনার অনুসন্ধান ও প্রতিক্রিয়া এবারেরই ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি প্রশমিত হবে কি না।