ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দলসংখ্যা ও সূচির পরিবর্তন আসছে

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) এর ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিন্তা করছে। এক সদ্যপ্রস্তাবিত পরিকল্পনায় আগামী চক্রে একক ম্যাচের টেস্ট (ওয়ান-অফ টেস্ট) অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এর পাশাপাশি, দলসংখ্যা বাড়িয়ে ১২টি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আইসিসির একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ, যার নেতৃত্বে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টউস, এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি মাসের শেষ কিংবা মে মাসের শুরুতে এই সুপারিশগুলো বোর্ডের সভায় উপস্থাপন হবে।

বর্তমানে, সূচি বিভ্রান্তি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় রয়েছে আইসিসি। এর সমাধানে এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে, দুই-স্তরের (টু-ডিভিশন) ডব্লিউটিসি মডেল প্রস্তাব করা হলেও বিভিন্ন পূর্ণ সদস্য দেশের আপত্তিতে তা বাতিল হয়ে যায়।

নতুন পরিকল্পনায় জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মত দেশগুলো এই চক্রের অংশ হতে পারে। ২০১৯ সালে ডব্লিউটিসি চালুর সময় পূর্ণ সদস্য হিসেবে থাকা সত্ত্বেও এই তিনটি দলকে এইমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যার ফলে, তারা নিয়মিত টেস্ট খেললেও বড় দলের বিপক্ষে সুযো​গগুলো খুবই সীমিত।

বর্তমানে, ডব্লিউটিসির প্রতিটি সিরিজে অন্তত দুই টেস্ট থাকতেই হয়। কিন্তু অনেক বড় বোর্ডের জন্য এই ধরনের সিরিজ আয়োজন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। তাই, ছোট দলগুলোর সঙ্গে এক ম্যাচের টেস্টের ব্যবস্থাপনাকে পয়েন্ট কাঠামোর মধ্যে আনার প্রস্তাব তোলে হয়েছে, যা এই সমস্যা সমাধানের দিকে একটি পদক্ষেপ।

এই পরিবর্তনের ফলে, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মতো দলগুলো সহজেই সূচিতে জায়গা পাবে। যেমন, কোনও দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একটি টেস্ট খেলতে পারে, বা ইংল্যান্ডের মতো দেশ তাদের গ্রীষ্মকালীন ব্যস্ত সূচির মধ্যে একটি ওয়ান-অফ টেস্ট আয়োজন করতে পারবে।

কিন্তু এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে দুটি বড় বিষয় বিবেচনা করতে হবে। প্রথমত, ওয়ান-অফ টেস্টকে ডব্লিউটিসির অংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া কি সম্ভব, এবং দ্বিতীয়ত, এই তিন দলের জন্য দুই বছর ধরে বাড়তি টেস্ট খেলা আর্থিকভাবে টেকসই হবে কি না।

এছাড়া, আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভার আয়োজনও এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের সংকটের কারণে পূর্বের বৈঠকটি স্থগিত হয়, এবং নতুন বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও সময় ও ভেন্যু এখনও চূড়ান্ত হয়নি।