ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে গেলেন মোজতবা খামেনি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির অনেকে নিহত হন—তবে সেদিন মোজতবা খামেনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিং সেই ঘটনার শ্বাসরুদ্ধকর বিবরণ তুলে ধরে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইস্রায়েলের প্রথম ধাপের আঘাতের প্রধান লক্ষ্য ছিল আলি খামেনির কম্পাউন্ড—যে জায়গায় তিনি বাস করতেন ও কর্মতৎপরতা চালাতেন। একই হামলায় মোজতবা খামেনিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত সূত্রের বরাতে টেলিগ্রাফ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে ইসরাইলি “ব্লু স্প্যারো” ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের কয়েক মুহূর্ত আগে মোজতবা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান—একটি কাজ করার উদ্দেশ্যেই।

ফাঁস হওয়া অডিওর কথোপকথনে আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি ঘটনার বর্ণনা দেন। অডিওর শ্রোতাদের মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতারা ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডাররা। সেই কথায় জানা যায়, মোজতবা ঠিক কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাঁর বাড়িতে ‘ব্লু স্প্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

মাজাহের হোসেইনি জানান, মোজতবা সরাসরি পুরোপুরি বিস্ফোরণের লক্ষ্যবস্তু না হলেও পায়ে আঘাত পান। হামলায় তার স্ত্রী ও সন্তানেরা তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন। এতে তার শ্যালকের দেহও বহুগুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়—অডিওর বর্ণনায় শ্যালকের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

আরও বলা হয়, খামেনির সামরিক ব্যুরোর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিরাজি ওই আঘাতে ‘ছিন্নভিন্ন’ অবস্থায় নিহত হন; পরে তার মরদেহ শনাক্তের সময় শুধু কয়েক কিলোগ্রাম মাংস অবশিষ্ট ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

টেলিগ্রাফ তাদের কাছে পাওয়া ওই অডিও ফাইল নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি করেছে। তবে ইরানের এক অনামিক কর্মকর্তা বলেন, সামরিক কমান্ডারদের কাছে মোজতবার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই—সে কেনাকাটা মোজতবা সুস্থ আছেন না, সে বিষয়ে স্পষ্টতা এখনো মেলে নি।

এই ঘটনার পরও বিবਾਦিত অবস্থানগুলি প্রকাশ পেয়েছে—১৪ মার্চ এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘‘তিনি (মোজতবা) আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তার উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমি শুনেছি যে তিনি বেঁচে নেই। আর যদি বেঁচে থাকেন, তবে দেশের স্বার্থে তার উচিত আত্মসমর্পণ করা।’ তবে ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর খবরে ‘গুজব’ বলেও উল্লেখ করেন।

তার বিপরীতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আলজাদিদকে বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘সুস্থ আছেন’ এবং ‘পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছেন।

সংক্ষেপে, দ্য টেলিগ্রাফের ফাঁস হওয়া অডিও সেই হামলার সময়ের নাটকীয় মুহূর্তগুলো উন্মোচন করেছে—কিন্তু মোজতবা খামেনির বাস্তব সময়ের অবস্থান ও সুস্থতা সম্পর্কে বিপরীত বিবৃতি ও অনিশ্চয়তা এখনো থেকে যায়।