ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইরাকে কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমানের বিধ্বস্তে ৪ মার্কিন সেনা নিহত

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং (স্ট্রাটোট্যাংকার) বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে; মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে বিমানে থাকা ছয়জন ক্রুর মধ্যে চারজনই মারা গেছেন এবং বাকি দুজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়দেনার ব্যাপারে তাত্ত্বিক বিবাদ শুরু হয়েছে। ইরানভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, পশ্চিম ইরাকের আকাশে কেসি-১৩৫ বিমানটিকে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে ভূপাতিত করা হয়। একই সঙ্গে ইরান সমর্থিত ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামের গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে ও দাবি করে, হামলায় বিমানে থাকা সব ছয়জনই নিহত হয়েছেন।

দ্বিপক্ষীয় এই দাবির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র তা সরাসরি নাকচ করেছে। সেন্টকম জানিয়েছে, বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনও কারণে বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে এবং এটি কোনো শত্রুপক্ষীয় হামলা বা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’—এর ফল নয়। সেন্টকমের কথায়, চারজন নিহত, দুজন গুরুতর আহত এবং তাদের ওপর চিকিৎসা চলছে।

ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার পরিবেশে ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের নামে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’–র পর থেকেই এই অঞ্চলে সহিংসতা ও আক্রমণের ধারা তীব্রতা পেয়েছে; ওই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েকজন মার্কিন সৈন্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে এবং বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

কেসি-১৩৫ হলো বোয়িং নির্মিত একটি দীর্ঘকাল পরিক্ষিত জ্বালানিবাহী বিমান—অতীত থেকে আজও মার্কিন বিমানবাহিনীর রক্ষণশীল মেরুদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত। আকাশে থাকা স্থায়ী বিমানগুলোর মধ্যে এটি যুদ্ধবিমান বা বোমারুদ্বারী বিমানে জ্বালানি সরবরাহে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

ঘটনাটি ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর জন্য নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পেন্টাগন ইতোমধ্যেই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে, আর সেই তদন্ত থেকেই ভবিষ্যতে মামলা ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিরূপিত হবে।