ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মোদির উপস্থিতিতে ভারতের সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা

ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদের উভয় কক্ষে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। বুধবার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই রাজ্যসভা ও লোকসভায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করে এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করে departed নেতাদের স্মরণ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহও সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

রাজ্যসভায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন; নথি পেশ হওয়ার আগেই তিনি প্রয়াতদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সভায় উপস্থিতরা খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিস্তব্ধতা পালন করেন, এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত ছিলেন এবং রাজ্যসভার অন্য সদস্যরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

লোকসভায়ও শোকপ্রস্তাব পাস করা হয়। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ সম্প্রতি প্রয়াত ভারতের পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন স্পিকার ওম বিড়লা। স্পিকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা—বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার অবদান—স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের প্রভাবশালী নেতাদের স্মরণ করা ভারতের সংসদীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একাধিকবার কাজ করেছেন এবং বহু বছর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতেও তার প্রভাব ছিল। তিনি ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন; পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত জানাজার পরে তাকে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।

খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ পেতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ শোক জানান এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন। পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় গিয়ে তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। এছাড়া ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ১ জানুয়ারি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং শোকবইতে খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে ব্যাখ্যা করেছে—বিশেষত চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের মধ্যে যে টানাপড়েন দেখা গেছে, সেসবের প্রেক্ষিতে দিল্লির এই শ্রদ্ধা ও যোগাযোগকে কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন; তার পরেই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত থেকে পারম্পরিক বিদায় জানান এবং অধিবেশন শুরুর নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়। সংসদের এই অধিবেশন মোট ৬৫ দিনে ৩০ কার্যদিবসের জন্য চলবে এবং ২ এপ্রিল শেষ হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি কক্ষদ্বয় ছুটিতে যাবে এবং ৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে। এর মধ্যে স্থায়ী সংসদীয় কমিটিগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুদানের দাবি (Demands for Grants) পর্যালোচনা করবে।

অধিবেশনের প্রথম পর্যায়ে মূলত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট সম্পর্কিত আর্থিক কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনা করা হবে। পরে অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রণয়ন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

অর্থনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২৯ জানুয়ারি উপস্থাপন করা হবে এবং কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ পেশ করা নির্ধারিত আছে ১ ফেব্রুয়ারি। অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ এই সমীক্ষা প্রস্তুত করেছে; এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (এপ্রিল–মার্চ) অর্থনীতির অবস্থা, বিভিন্ন সূচকের বিশ্লেষণ এবং আগামী অর্থবছরের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।