ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের নেত্রী: খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনকাহিনী

সাধারণ একজন গৃহবধূ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান গড়ে তোলার গল্পটি একটি জীবন্ত ইতিহাস। এই সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্বের মহান দিকপাল খালেদা জিয়ার জীবনকে হৃদয়স্পর্শী আবেগের মাধ্যমে তুলে ধরতে খুলনায় আয়োজন করা হয়েছে দুটি দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এই আয়োজনটি করেছেন বগুড়া মিডিয়া ও কালচারাল সোসাইটি, যা শুক্রবার খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে শুরু হয়েছে।

প্রদর্শনীটিতে খালেদা জিয়ার পারিবারিক জীবন, রাজনৈতিক উত্থান, আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবন্দি সময়, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের নানা ধাপের প্রায় শতাধিক ছবি স্থান পেয়েছে। প্রতিটি চিত্র যেন একেকটি ইতিহাসের গল্প, যা দেখলে চোখে জল আসে। পাশাপাশি পার্কের মুক্তমঞ্চে সেখানে প্রদর্শিত হয়েছে দুর্দান্ত এক ভিডিও ডকুমেন্টারি, যা তাঁর জীবনের সংগ্রাম ও সংগ্রামী অভিযানের ওপর নির্মিত। এই প্রামাণ্যচিত্রটি দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং নতুন প্রজন্মের জন্য বাংলার এই নেত্রীর জীবন ও সংগ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে অনুপ্রেরণা দেয়।

প্রদর্শনীটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সকাল সাড়ে ১১টায় মূখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। তাঁর সংগ্রামী জীবন তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অসাধারণ প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসান, খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলী, বগুড়া মিডিয়া ও কালচারাল সোসাইটির ঢাকা শাখার সভাপতি মারুফ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ। বক্তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসন, নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো আপস করেননি। তাঁর এই সংগ্রাম দেশ resistorতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল অপ্রতিরোধ্য।

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী নতুন প্রজন্মের জন্য দেশের নেত্রীর জীবন ও আদর্শ জানা সহজ করে দেয়। আয়োজকদের মতে, এই দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনী মূলত বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনকে আরো বেশি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে চায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেগম রেহানা ঈসা, এডভোকেট তছলিমা খাতুন ছন্দা, কে. এম. হুমায়ুন কবির, হাফিজুর রহমান মনি, শরিফুল ইসলাম টিপু, আশরাফুল ইসলাম নূর, জাকির ইকবাল বাপ্পি, নাসিরুদ্দিন, ইসহাক আসিফ, মো: রাকিবুল হাসান, মাসুদুল হক হারুন, নুরুল হুদা পলাশ, শেখ সরোয়ার, শাহিন মল্লিক রাজু ইত্যাদি।