ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করলে কঠোর প্রতিরোধ হবে

নির্বাচনপ্রক্রিয়া যদি ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পুনরাবৃতি হয়, তবে সেগুলো কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এমন নির্বাচন মানবে না বলে মনে করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি জানান, যদি কেউ অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করে, সেটি কেবল দুঃস্বপ্নের মতোই রইবে। জনগণ সেই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফেরানোর নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ডাঃ তাহের আরো বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একমাত্র দল যেখানে নারীর সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি, যা দেশের মোট ভোটারদের অন্তত ৪৩ শতাংশ। আমাদের আর্চিওর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলসমূহে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যের বাধ্যবাধকতা, যা শুধু জামায়াতে ইসলামী সেনেটই পূরণ করেছে। তিনি দাবি করেন, অনেকের ধারণা হয়ত, জামায়াতে নারীদের গুরুত্ব কম, কিন্তু বাস্তবে যারা নারী সদস্য বেশি, তারা দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অপপ্রচারে কিছু মানুষ এই বিষয়টিকে ভুলভাবে প্রচার করার অপচেষ্টা করছে।

ডাঃ তাহের বলেন, নির্বাচন খুবই কাছাকাছি। এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী-সমর্থকরা খুবই সক্রিয়। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোট চাচ্ছেন। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সারাদেশে নারী ভোটাররা জামায়াতকে বেশি ভোট দিতে পারেন, কারণ তারা শান্তিময় এবং বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না। নিজ নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও তিনি মনে করেন, পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি ভোট দেবে ইনশাআলাহ। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং বিপুল ভোটে জয় লাভ করতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তাহের অভিযোগ করেন, নেতা-প্রতিপক্ষরা বুঝতে পেরেছেন যে নারীদের এ সক্রিয়তা তাদের জন্য ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। এ কারণেই সারাদেশে নারীদের ওপর আক্রমণ, হেনস্তা ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। অপপ্রচারের মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, নারীরা আমাদের মা-বোন-কন্যা, তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যারা নারী অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলে চিৎকার করেন, তারাই এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। দেশের কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে হামলার ঘটনা ঘটছে, এমনকি জিহ্বা কেটে দেওয়ার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। জামায়াতে ভোট দিলে হাত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় দেখানোও হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একজন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয়, তবে তার ফলাফল দেশের বাইরেও গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। এর ফলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলসহ সরকারের বড় দায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। এতে ব্যর্থ হলে দেশ সঠিক পথে আর ফিরে আসতে পারবে না। যদি কেউ মনে করেন, জোরপূর্বক ক্ষমতায় গেলে সব কিছু শেষ, তা একদম ভুল। এটি একটি মারাত্মক ভুল ভাবনা, যা দেশের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নারী কর্মীরা আহত হচ্ছেন, দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধা পাচ্ছেন। উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা রোজই ঘটছে। কেন্দ্র দখলের জন্য হুমকি, মারধর এবং অ승ত্মান দখলদারির মহড়া চলছে। প্রতিপক্ষের মূল কৌশলই হলো কেন্দ্র দখল এবং শক্তি দেখানো, যা তাদের বিজয়ের মূল মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডাঃ তাহের স্পষ্ট করে বলেন, সব মিলিয়ে আমাদের বার্তা হলো, নারী হোক বা পুরুষ, সবাইকে দায়িত্বশীল ও শান্তিপ্রিয় পরিবেশ রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এই জন্য প্রয়োজন সবার সচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।