ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা দুর্নীতি টিকিয়ে রাখতে চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী না করলে গত ৫৪ বছরে সৃষ্টি হওয়া দুর্ভোগ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চলতেই থাকবে। শনিবার ছাত্রসমাজ বিভিন্ন নির্বাচনে চাঁদাবাজদের পরাজিত করেছে—এ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের পরাস্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ফুলতলা উপজেলার পটিয়াবান্দা, ধোপাখোলা, পিপরাইল, ডুমুরিয়া উপজেলার মান্দ্রা, দহখোলা, পাকুড়িয়া, রুদাঘরা ও শৈলগাতি এলাকায় নির্বাচনী জনসভা, মিছিল, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগের সময় এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ভোটারদের নৈতিক ও চরিত্রনির্ভর নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং দলমতকে ছাপিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, “ধানের শীষ, নৌকা, লাঙ্গল রাষ্ট্র চালাতে পারলে দাড়িপাল্লাও পারবে—এটা আমাদের অধিকার।” একই সঙ্গে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শত্রুতা নয়, সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশপ্রীতির আহ্বান জানান তিনি। আগামী নির্বাচনকে গণভোট হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা বর্তমান দুর্নীতি-চাঁদাবাজির ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়—এ মন্তব্যও করেন তিনি।

ভোটের দিন দ্রুত কেন্দ্র এসে আগেভাগে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আগে ভোট দিয়ে তারপর বাড়ি ফিরবেন। যুবকদের দায়িত্ব থাকবে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া, যাতে কোনো ভোট ডাকাতি বা সন্ত্রাস না হয়।”

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাস, আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল হাসান, হিন্দু কমিটির নেতারা অমল মন্ডল, অসিত মন্ডলসহ স্থানীয় নেতারা ও কর্মীরা।

নির্বাচিত হলে তাঁর প্রাথমিক অগ্রাধিকার হবে বিল ডাকাতিয়ার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন—এ কথা জানিয়ে সাবেক এমপি বলেন, “আমি নিজেও বিল ডাকাতিয়ার লোক। এখানেই আমাদের জমি-জমা, ফসল। এই বিল ডুবে গেলে আপনারা কষ্ট পান, আমিও কোন্দল পাই। তাই আল্লাহ যদি আমাকে ক্ষমতা দেন, প্রথম কাজ হবে পানির নিষ্কাশন।” তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের পরে ভাঙাচোরা রাস্তা, মসজিদ-মন্দিরসহ এলাকাভিত্তিক সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। ফুলতলাকে নিজের জন্মস্থান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অঞ্চলটিকে সুন্দরভাবে গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে তাদের কেউই দুর্নীতিমুক্ত ছিল না। তিনি বলেন, প্রত্যেক সরকারের আমলেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও বিরোধী দমননীতি দেখা গেছে এবং তাই পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বই পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

ভোট কেনার জন্য দেওয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না; ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। যারা ভোট কেনে, তাদের দেওয়া অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরামর্শও দেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য। ১০১ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়া হবে—এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।