ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

দক্ষিণ সুদানের জুবা ও মালাকাল এলাকায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট (ব্যানএফএমইউ-১০) এর ১৯৯ জন সদস্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক লাভ করেছেন। এ সুন্দর মুহূর্তের উদযাপন হিসেবে গত বুধবার জুবায় এক বিশাল মেডেল প্যারেডের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউএন মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহান সুব্রামানিয়াম, যিনি এই অর্থে তাদের প্রশংসা করেন এবং শান্তিরক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও নাবিকদের এই স্বীকৃতি প্রদান করেন। এ ছাড়াও আনমিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফোর্স কমান্ডার শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশের নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে তারা অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। নীল নদের এই বিপরীত পরিবেশে জাতিসংঘের জন্য জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যসমূহ নিরাপদে পরিবহন করার পাশাপাশি নদী পথে নিয়মিত টহল, রেকি অপারেশন, উদ্ধার অভিযান, ডাইভিং ও অন্যান্য কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এই মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। দক্ষিণ সুদানে আনমিসের একমাত্র মেরিন ফোর্স হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়োজিত রয়েছে, যেখানে তারা নীল নদের দীর্ঘ ১৩১১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৭১টি লজিস্টিক অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মোতায়েনের পর থেকে তারা দেশ ও দেশের জনগণের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। পাশাপাশি উত্তাল মহাসাগরে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পরিবেশের শান্তি ও নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক ভূমিকা পালন করে চলেছে।