ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নতুন পোশাকে ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তি হবে: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও তিনি আর দেখতে চান না। নতুন কোনো নাম বা নতুন কোনো সাজে ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ৫ আগস্টের সেই ভয়াবহ পরিণতি আবারও ঘটবে—তাই সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে এবং ফ্যাসিবাদের যে কোনো চিহ্ন দ্রুত নির্মূল করার চেষ্টা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর আদর্শ স্কুল মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জমায়েতভুক্ত যারা এখানে বসে আছেন, তাদের মধ্যে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ মানুষ গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি, এমনকি অনেকেই জীবনে একবারও ভোট দেননি। যারা এই ভোট কেড়ে নিয়েছিল, তাদের তিনি ‘ভোট ডাকাত’ বলে অভিহিত করেন। ‘‘আপনি কি নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চান? আমরা চাই না,’’ তিনি বলেন।

তিনি বলেন, এই ৪০ শতাংশই হলো বিপ্লবের মূল শক্তি। তাদের হাত ধরেই আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং তাদের কারণেই আজ জনসমাবেশে আমরা কথা বলছি। ‘‘আপনাদেরকে স্যালিউট,’’ বলেন আমির। কিন্তু তিনি যোগ করেন, সংগ্রাম এখানেই শেষ হবে না—দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা ফিরে যাবে না।

শফিকুর রহমান বলেন, যারা নিজেদের দলের লোকদের চাঁদাবাজি, দখল-বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা—এসব থেকে বিরত রাখতে পারে, তারা ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবে। আর যারা এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখুক, জাতি তাদের চক্রান্ত বুঝে ফেলবে এবং তাদের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখাবে না।

তিনি সরাসরি কারো বিরুদ্ধে আক্রমণ না করলেও স্মরণ করিয়ে দেন, যাদের দ্বারা ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল এবং যারা তাদের মূল দোসর ছিল, তারা এখনতখন দৃশ্যমান নয়। ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান—‘‘আমরা যে কষ্ট ভোগ করেছি, তা যেন আর কেউ জনগণের ওপর না ফেলে। মেহেরবানী করে এই কষ্ট আর কেউ যেন না দেয়।’’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনও কিছু জায়গায় ফ্যাসিবাদের ছায়া কাজ করছে। যদি তা বন্ধ করা না যায়, আগামী ১২ তারিখ জনগণ দুই রকমের ‘না’ ভোট এবং অনেকগুলো ‘না’ ভোট দেবে, ইনশাআল্লাহ। জনগণের মুখে এখন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনীতির কাঠামো বদলের ইচ্ছা স্পষ্ট হওয়ায় তিনি আশাবাদী যে গণভোটে মানুষ বদলের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় শিশু-তরুণ-যুবক-বৃদ্ধ এবং নারী—সবাই রাস্তায় নেমেছে। নির্বাচনী মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১০ দলকে বিজয়ী করা মানে আধিপত্যবাদের, চাঁদাবাজদের, দখলদারদের, ফ্যাসিবাদের, ব্যাংক ডাকাতদের এবং নারীর ইজ্জত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বড় একটি প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে ওঠা।