ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

৫ অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফেরার ইচ্ছে নেই: তারেক রহমান

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করলে দেশের মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার আশা প্রকাশ করেছেন দলের নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আমাদের সমস্যাগুলো এখনো বিদ্যমান এবং থাকছে। তিনি বলেন, আমি কোনোভাবেই ৫ অগাস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে তিনটি শোকের আলাদা আলাদা দৃশ্যপট—১৯৮১ সালের জানাজা, যেখানে আমার এক পাশে ছিল তার হারানো প্রিয়জনের বিদায়; ২০২৫ সালের জানাজা, যেখানে আমি আবার একটি বড় শোকের মাঝে; আর অন্যান্যটি হলো ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ঘটে যাওয়া ঘটনার স্মৃতি। এই তিনটি ঘটনা একযোগে স্থির করে দেয়, আমাদের জন্য এখনো ফিরে যাওয়ার বা অতীতের সঙ্গে ফিরে যাবার কোনো কারণ নেই। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ ও শত্রুতা—একজন ব্যক্তি, দল বা দেশের জন্য ক্ষতিকর। ৫ অগাস্টের ঘটনার পরিণতি দেখে আমরা অনুধাবন করেছি এর ভয়াবহতা। তাঁর আরও বলেন, সকলের মধ্যে মতবৈচিত্র্য থাকা স্বাভাবিক; কিন্তু সেটি যেন বিভেদে না পরিণত হয়, সেটি আমাদের সচেতন থাকতে হবে। বিভিন্ন মতের মধ্যকার পার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব, তবে তা যেন বিভক্তি বা সংঘাতের রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক হতাশা থাকলেও ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো বর্তমান। যুক্তরাজ্য থেকে দেড় যুগের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী-সন্তানসহ দেশে ফিরে আসেন তিনি। কিছুদিনের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা খালেদা জিয়া মারা যান। এরপর ১০ দিন পার না হতেই শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এর পরদিন, অর্থাৎ রবিবার, তিনি প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এক সাংবাদিকের কাছে তিনি বলিউডের মাননীয় উপাধি ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করলেন, তিনি জানান, আমি চাই না আমার নামের আগে ‘মাননীয়’ বলতে। তিনি বলেন, দেশে ফিরে আসার পর আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ করেছি, যেমন সাভার ও অন্যান্য এলাকায়। তিনি বলেন, মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্মের জন্য একটি আশা, একটি গাইডেন্স দরকার। তার মতে, প্রত্যেক প্রজন্মই কিছু একটা পথচলার নির্দেশনা চায়। রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেক প্রত্যাশা থাকে, তবে সব প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। তবে, যদি আমরা ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল ও ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ঘটনাগুলোকে সামনে রেখে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে আমি নিশ্চিত যে, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারব ও আমাদের দেশের উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হব।