ঢাকা | সোমবার | ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বোচ্চ আদালত আবারও রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে আপিল শুনবেন

দেশের সব থেকে উচ্চ আদালত আজ বুধবার (২৮ আগস্ট) ঘোষণা করেছেন যে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদমর্যাদার মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে করা আপিলের বিচার আবারও শুনানি হবে। একই সঙ্গে অ্যাপিলের নম্বর এবং তার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা হলো ৪ নভেম্বর। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেয়।

২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ বিচার করে দেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নির্ধারণ করে। ওই রায় প্রকাশ পায় ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর। এই রায়ে বলা হয়, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন, তাই রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বকে বিবেচনায় নিয়ে তাদের উচ্চতা নির্ধারণ করা উচিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সরকারি সচিব, জেলা জজ ও সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের স্থান।

রায় অনুযায়ী, জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ১৬ নম্বর থেকে ২৪ নম্বরের মধ্যে থাকবেন এবং তারা সরকারের সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত হবেন। জুডিশিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ হলো জেলা জজ। সরকারের অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সচিবরা রয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা জজ ও অন্যান্য বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের স্থান হবে জেলা জজদের ঠিক পরেই, অর্থাৎ ১৭ নম্বর পদের কাছাকাছি।

আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের সময়ই ব্যবহার করা উচিত। এটি নীতিনির্ধারণ বা অন্য কোনও কার্যক্রমে প্রয়োগ করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ তৈরি হয়, যা পরে ২০০০ সালে সংশোধন করা হয়। মূলত, এই ওয়ারেন্টের বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব আতাউর রহমান ২০১০ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট তখন এই ওয়ারেন্ট বাতিলের নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন এবং কিছু নির্দেশনা দেন যাতে এই নথির ব্যবহার সীমিত হয়।