ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

দিন দিন দেশের বৈদেশিক আয়ের প্রবাহ বেড়েই চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বয়ে আনা অর্থের কারণে এই প্রবাহ আরও সুসংহত হচ্ছে। চলতি ডিসেম্বর মাসে দেশের বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। বাংলা অঙ্কে এর পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যেখানে প্রতি ডলার ধারনা অনুযায়ী ১২২ টাকায় হিসাব করা হয়েছে। এই পরিমাণ রেমিট্যান্স নয় মাসের মধ্যে সবথেকে বেশি, যা আগের সব রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসব তথ্য জানায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীরা মোট ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। এই তুলনামূলক তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স ৬৯ কোটি ডলার বা প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২০ কোটি ডলার। সেন্ধান্তে, এই সময়ে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৮ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতি দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তির আমেজ ফিরেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল যথাক্রমে: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বর মাসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

অতিবাহুল্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স রেকর্ড সার্বিক প্রভাব ফেলেছে। ওই অর্থবছর শেষে দেশে মোট রেমিট্যান্স পৌঁছেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এই অর্জন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি আশার আলো দেখাচ্ছে।