ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

জামায়াতের অভিযোগ: ডিসি-এসপি পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেন নায়েবে আমির

জামায়াতে ইসলামীনের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পক্ষপাতদুষ্টভাবে নির্বাচনকাজে যুক্ত হচ্ছেন। তিনি বলেছেন, তারা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছেন এবং এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট ডিসি-এসপিদের সরিয়ে দেয়ার জন্য।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাহের এ সব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন মামলায় পার্থক্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় এই অফিসাররা দলীয় স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কিছু কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তারা বলছেন, এই বিষয়গুলো তারা নীতিগতভাবে দেখবেন।

তাহের অভিযোগ করেন, একটি দলের পক্ষ থেকে কৃষি কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যা আচরণবিধির ব্যতিক্রম। তিনি অভিযোগ করেন যে, দলীয় ডিসি নিয়োগ দিয়ে এই অংশটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমতা ও ন্যায্যতা নেই বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার নিয়ে সরকার ইতিমধ্যে মত দিয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ করতে সহায়তা করবে। তবে, যদি নির্বাচন জালিয়াতির মাধ্যমে হয়, তাহলে দেশের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে দেন, এমন অবস্থায় দেশের স্বার্থে সবাইকে দৃঢ় থাকতে হবে।

তাহের বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে মাঠে প্রমাণ করতে হবে তাদের নির্ধারিত অযোগ্যতা বা পক্ষপাতের বিষয়গুলো। তিনি কোনো নির্দিষ্ট তালিকা দেননি, বরং পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।

দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, আবার কোথাও ভুলভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়ালের মনোনয়ন আমলে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, তাঁর নিজের দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বলে জানান।

উল্লেখ্য, এই বক্তব্য ও অভিযোগের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও কর্মকর্তা পর্যায়ে পক্ষপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।