ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সুন্দরবনে ডাকাতের হাতে জিম্মি পর্যটকরা উদ্ধার, আটক ৫

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, পুলিশ এবং র‌্যাবের যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত দলের হাত থেকে জিম্মি থাকা পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনা শুরু হয় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার সময়, যখন গোলকানন রিসোর্ট থেকে কাঠের বোটযোগে ভ্রমণে বের হয়েছিল পাঁচ পর্যটক, এক মাঝি ও রিসোর্টের মালিক। চারটি ডাকাত দল, যার নেতৃত্বে মাসুম মৃধা, এই পর্যটক, মাঝি ও রিসোর্ট মালিককে ধরে নিয়ে জিম্মি করে। ডাকাত দলের মনোভাব ছিল মুক্তিপণ দাবির। তারা তিন পর্যটক ও মাঝিকে ছেড়ে দিলেও, দুই পর্যটক এবং রিসোর্টের মালিককে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং এ ব্যাপারে মুক্তিপণ চায়। পরে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার দিকে গুরুত্ব দিয়ে কোস্টগার্ডকে জানায়।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযান শুরু হয়। এরই মধ্যে, গত ৩ জানুয়ারি, ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), সালাম বক্স (২৪) ও মেহেদী হাসান (১৯) সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়। আরও পরে, রোববার (৪ জানুয়ারি), কৈলাশগঞ্জ এলাকা থেকে অন্যান্য সহযোগী আলম মাতব্বরকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়। একই দিন, রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা থেকে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে উদ্ধার করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ হিসেবে সংগৃহীত ৮১,৪০০ টাকা নগদসহ ডাকাত মাসুমের মা, জয়নবী বিবি (৫৫), এবং ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডুকে (৩০) আটক করা হয়।

সন্ধ্যায়, ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় দুই পর্যটক ও রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে, প্রধান ডাকাত মাসুম মৃধার খোঁজে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, উদ্ধার করা বিকল্প পর্যটকদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও আটকদের থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। ভবিষ্যতেও সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটক ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।