ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

জামায়াত আমিরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন ভারতের কূটনীতিক

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পরে একটি জাতীয় সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, চলতি ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ভারতের এক কূটনীতিকের সাথে গোপন বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ওই কূটনীতিকই তাঁর কাছে এ বৈঠকটি গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিলেন, তাই এটি গোপন রাখা হয়। রয়টার্সের এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য একথা জানান দলটির এই নেতা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বুধবার এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

আসন্ন নির্বাচনের খুব কাছাকাছি সময়ে যখন নয়াদিলি­ নতুন সরকার গঠন করতে রাজি হওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, তখন শফিকুর রহমান বলেন, তিনি চলতি বছর ভারতের একজন কূটনীতিকের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি আরও জানান, অন্য দেশের কূটনীতিকরা সাধারণত প্রকাশ্যে তাঁদের সাক্ষাৎ করেন, কিন্তু ভারতীয় ওই কূটনৈতিক তাঁর সাথে বৈঠকটি গোপন রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের সকলের উচিত সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একে অপরের প্রতি খোলা মন রাখা। দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য সম্পর্কের উন্নতি খুব জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, কমপক্ষে পাঁচ বছর শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সমস্ত দল একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জরুরি হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কৌশল নেওয়া উচিত, কারণ এটি একটি জাতীয় লক্ষ্য।

বাংলাদেশ জামায়াতের আমির জানান, তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী হবেন সেই দল, যার সর্বোচ্চ আসন থাকবে। আর যদি জামায়াত তাদের হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি আসন পায়, তবে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, তা দলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ভারতের এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

জামায়াতের সঙ্গে পাকিস্তানের ইতিহাস ও সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করলে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তিনি বলেন, কোনো এক দেশের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকতে চান না; সবাইকে সম্মান করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান।

তাঁর আরও মন্তব্য, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন নিয়েও কোনও সরকার স্বস্তিতে থাকবে না। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রয়োজনে নিজের মেয়াদ মাঝপথে তিনি ছেড়ে দেবেন।

তবে বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি আরও জটিল করে তুলতে চান না।