ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

আদালতের নির্দেশে দুদক গুলশানের সাবেক ভূমিমন্ত্রীর দুই ফ্ল্যাট নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে

ঢাকার গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর দুই ফ্ল্যাট আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা এবং গুলশান থানা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গুলশানের ওই দুটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা সব সামগ্রী তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।’

ফ্ল্যাট দুটি গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত। এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট; মোট আয়তন ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ওই দুই ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ প্রদান করেছিলেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলেও তালাবদ্ধ থাকায় তখন প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

পরে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত গত ২৯ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা খুলে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে মালামালের তালিকা তৈরির অনুমতি দেন। একই সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামুর চৌধুরী ও ভবনটির ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেনকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দিয়েছিলেন।