ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সেনাবাহিনী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক; জনগণের আস্থা গভীর: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং জনগণের তাদের প্রতি আস্থা গভীর। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন সেনা-মহড়া পরিদর্শনে তিনি এসব কথা জানান। পর্যবেক্ষণকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে কথা বলেন, জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের জন্য উৎসাহ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনা সদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠতা দেশের মানুষের মধ্যে তাদের বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে। সেই মর্যাদা ধরে রাখতে ‘‘পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।’’

নিজের সেনা পরিবারের পটভূমির কথাও তুলে ধরে তিনি জানান, ‘‘আমি এক সেনা পরিবারেই বড় হয়েছি। তাই এখানে এসে আমার খুব ভালো লাগে, শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।’’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী আরও বেশি সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে এবং সরকার এই সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান করবে।

মহড়া পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী ঘন জঙ্গল ও দুর্গম এলাকায় পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সৈন্যদের চলাচল ও বাস্তবসম্মত যুদ্ধপরিস্থিতির প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং কৌশলগত প্রস্তুতির ওপর ব্রিফিং নেন।

প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী ও মাঠে ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন।

একপর্যায়ে তিনি সৈন্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শুনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সৈন্যদের জন্য তৈরি যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশভিত্তিক খাবারও তিনি গ্রহণ করেন। কৌটায় আগুন জ্বালিয়ে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয়।

পরিদর্শনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।