ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

এডিবি: ২০২৭ সাল নাগাদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে, বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মাঝেও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে তার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে তুলছে এবং ২০২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৬’ প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এই পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশ ধরা হয়েছে এবং পরবর্তী অর্থবছরে ধারাবাহিক সংস্কার ও সামষ্টিক অবস্থার উন্নতির ফলে তা বাড়বে বলে বলা হয়েছে।

এডিবি’র বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা বলেন, কঠোর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীল সম্প্রসারণের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি অপেক্ষাকৃতভাবে টিকে আছে।

তিনি আরো যোগ করেন যে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালি করা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, আর্থিক খাতে সুশাসন গড়ে তোলা এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত ব্যাধি দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। এসব পদক্ষেপ বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে, মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করতে এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর আর্থিক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স ও সেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ এবং অগ্রাধিক্যভিত্তিক খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করবে।

এডিবি পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯.০ শতাংশ থাকতে পারে, যা ২০২৭ অর্থবছরে একটু কমে ৮.৮ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটি মনে করে মাঝারি স্তরের মূল্যস্ফীতি বজায় থাকলে এবং ব্যবসায়িক বিধিনিষেধ সহজ করা, সুশাসন শক্তিশালী করা, কর প্রশাসনের সংস্কার ও রেমিট্যান্সে প্রবল প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও দৃঢ় হবে।

এডিবি জানানোর মতে, সেবা খাত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে এবং চলমান নীতিগত সংস্কারগুলো ব্যবসার পরিবেশকে উন্নত করে মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানো এবং বহিরাগত ধাক্কা সামলাতে দেশের স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করতে ধারাবাহিক নীতি-সংশোধন ও বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।