ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহে নতুন মোড়: মায়ের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি, বাবা পুলিশ হেফাজতে

খুলনায় উদ্ধার হওয়া কিশোরী নির্জনার বস্তাবন্দি মরদেহ সংক্রান্ত তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে নিহতের মা সীমা আক্তার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এতে নিহতের বাবা মোঃ আলীম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম বৃহস্পতিবার সীমা আক্তারের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালত পরবর্তীতে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। খুলনা সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোঃ আঃ সাত্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সীমা আক্তার জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয় এবং তিনি মেয়েকে বেশ কয়েকটি চড়থাপ্পড় দেন। পরবর্তীতে, ঘরের মধ্যে শোরগোল থামাতে বাবা আলীম হোসেন দুজনকে চুপ করে যেতে বলেন। সীমার দাবি অনুযায়ী, মেয়ে চুপ না রাখায় তিনি বাড়ির একটি কাঠের লাঠি দিয়ে মেয়ের মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মেয়েটির মৃত্যু হয়।

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়েছে, মৃত্যুর পর আলীম হোসেন ঘরের ভেতরে থাকা এক ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে লাশ ঢেকে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে বেঁধে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে যান।

সীমা আক্তার বলেন, তাদের কন্যা ১৭ বছর বয়সী নির্জনাকে গত ২১ এপ্রিল পারিবারিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা উপজেলার আজগড়া এলাকার এক ছেলেকে বিয়ে করানো হয়। বিয়ের ১৭ দিন পর মেয়েটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ঘটনার সেই সপ্তাহের বুধবার সকালে নির্জনা শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন; পরে তাঁকে বুঝিয়ে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং বিকেলে এ দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।

পুলিশের মতে, গত ৮ জুলাই রাত প্রায় ১০টার দিকে নগরের সদর থানার নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার সাততলা ভবনের সামনে একটি প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি মরদেহ ভিজিএফ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হলে পরদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে নিহতের মা মরদেহ শনাক্ত করেন। নিহত ছিল সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা।

ঘটনার প্রাথমিক বিবরণে পরিবারের একাংশ প্রথমে দাবি করেছিলেন, বিয়ের পরে স্বামীকে সন্দেহ করা হচ্ছে। কিন্তু তদন্তের অগ্রগতির সাথে পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের অনুসন্ধানের আওতায় আসেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধারকৃত আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

সাবেক ওসি (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম আগে জানান, সীমা স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বীকারোক্তি দিতে চাইলে শুক্রবার দুপুরে তাঁকে আদালতে নেওয়া হয় এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সকল দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত চালাচ্ছে।

কীটল বিবরণ দিতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মিডিয়া সেল জানিয়েছে, এই ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য জানাতে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় কেএমপি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।