ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ব্যাটিং ধসে বাংলাদেশকে হারিয়ে জিম্বাবুয়ের স্মরণীয় সিরিজ জয়

সিরিজ বাঁচাতে নামা বাংলাদেশি দলের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে আকস্মিক ব্যাটিং ধস কাঁপিয়ে দিয়েছে ম্যাচটিকে। এক সময় ম্যাচটি বাংলাদেশের দখলে থাকলেও শেষপর্যায়ে অবিশ্বাস্যভাবে ১৩ রানে হার মেনেছে সফরকারী দল এবং এক ম্যাচ হাতে রেখেই স্মরণীয় সিরিজ জয় পায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৪৮ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এক সময়ে শক্ত অবস্থানে ছিল। ৪৯ বল হাতে থাকতেই প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪১ রান এবং হাতে ছিল পাঁচ উইকেট—তাই লড়াইটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরপরই শুরু হলো ধস। মেহেদী হাসান মিরাজ শেষ ওভারে ১৪ রানের প্রয়োজন মিটিয়ে দিতে পারেননি; ৪৮.১ ওভারে এনগারাভারার এক ক্যাচে ফিরলে বাংলাদেশ নির্ভার ২৩৪ রানে গুটিয়ে যায়।

ম্যাচের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছিল ৫ উইকেটে ২০৭; তখন দলে এনার্জি দেখাচ্ছিলেন নুরুল হাসান (৩৮) এবং মিরাজ। নুরুল-মিরাজের ৩১ রানের জুটি ভাঙার পর ইনিংস ক্রমে ছন্দ হারায়। পরের দিকে একে একে ফেরেন রিশাদ হোসেন (৮), তাসকিন আহমেদ (০), শরিফুল ইসলাম (৬) এবং মিরাজ (২৭) — শেষ ৫ উইকেট মাত্র ২৭ রানে পড়ে যায়।

এর আগে ম্যাচের শুরুর দিকে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তানজিদ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়; তাদের ফিফটি যোগ করে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ১২২। তানজিদ ৫৭ রানে আউট হওয়ার পর ৮৪ রানের জুটি ভেঙে যায়, তাওহীদও ৬০ রানে ফিরলে নুরুল হাসান দলের দায়িত্ব নিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আচমকা ভাঙনে হার এড়ানো যায়নি।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে রিচার্ড এনগারাভা ৫৫ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স দু’টি করে উইকেট নেন। সিকান্দার রাজা, ব্রায়ান বেনেট ও ওয়েসলি মাধেভেরে একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে প্রথমে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ; জিম্বাবুয়ে শুরুতেই ৬৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সমস্যায় পড়ে। সেখান থেকে লড়াই সামলান বেন কারান—অপরাজিত সেঞ্চুরি (১৩৫ বলে ৯ চারে ১১১*) করে তিনি। কারানের সঙ্গে তৃতীয় থেকে পঞ্চম উইকেটে বিভিন্ন সময় জুটি গড়ে দলকে ভিত দেয় সিকান্দার রাজা; পঞ্চম উইকেটে কারানের সঙ্গে ৬৮ রানের অমস্তি জুটি তৈরি হয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে। রাজার বিদায়ের পর মাদান্দে-কারানের তাত্ক্ষণিক জুটি বড় না হলেও পরে সপ্তম উইকেটে বেন কারান ও ব্র্যাড ইভান্সের ৯৯ রানের অভিন্ন জুটিই জিম্বাবুয়েকে শক্ত সংগ্রহ এনে দেয়—অবশেষে তারা ৬ উইকেটে ২৪৭ রানের সংগ্রহ করে।

ইনিংসের শেষভাগে ব্র্যাড ইভান্স মাত্র ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ২টি চার ও ৫টি ছয়। বেন কারান ১৩৫ বলে অপরাজিত থাকেন ১১১ রানে—তারাই দলের বড়ভাগ সংগ্রহ করান।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৫৭ রানে দুটি উইকেট নেন; মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন ৩২ রানে দুটি উইকেট। একটি করে উইকেট নেন নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন।

শেষ মুহূর্তের এই ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশের আশা ভাসমান থেকে গেল, আর জিম্বাবুয়ে উদযাপন করল একটি স্মরণীয় সিরিজ জয়ের।