ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

গৃহকর্মী নির্যাতন: খুলনা এএসআই সঞ্জয় ও স্ত্রীর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় কুমার সরকার ও তার স্ত্রী পপি রানী সাহাকে গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকাল ৪টায় অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতিকে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ফারুক ইকবাল তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনাটি সামনে আসতে পাওয়ার পর মঙ্গলবারের বদলে গতকাল বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী মিলন দাশকে পুড়ে যাওয়া তর্ক দিয়ে তার নিয়োগকর্তা পপি রানী মারধর করে এবং গরম কড়াই দিয়ে দাগ দেয়—এই রহস্যজনক ঘটনায় ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়।

ভিডিও আবির্ভাবের ঘটনায় বুধবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায় এবং এএসআই সঞ্জয় ও তার স্ত্রীকে থানায় হেফাজতে নেয়। ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী পরে সোনাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখায় এবং পরবর্তী শুনানির জন্য আদালতে প্রেরণ করে।

সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী মিলন দাশ নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার উকিল চন্দ্রের কন্যা। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে এএসআই সঞ্জয়ের পরিবারের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করছিলেন। ভিডিও দেখার পর মায়ের সিদ্ধান্তে মিলনের পরিবার খুলনায় আসেন এবং ঘটনাটি জানিয়ে সকালে থানায় মামলা করেন।

ওসি আরও জানান, তদন্তে দেখা গেছে গত বুধবার থেকে অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতি গৃহকর্মী সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের আদালতে হाजির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তারা দু’জনই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হওয়ায় এ রকম কৃত্য বরদাশত যায় না এবং সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সকল রকম আইনি ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে।

প্রসঙ্গত, ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছোঁড়ার পর থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিষয়টি নজরে রেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে। পুলিশ ও আদালত তদন্ত জোরদার করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।