ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নাঈমকে মারধরের ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকে আটক, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি

চট্টগ্রামের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনায় পুলিশের সোর্স মোহাম্মদ সোহেলকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় তদন্তের জন্য পুলিশের উপকমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তথ্য হাতে পাওয়ার পর ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

কমিশনার বলেন, প্রাথমিকভাবে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে; তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশি গ্রেপ্তারের আগে শুক্রবার রাতে নাঈমকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তল্লাশি করা হয়; সেখানে তাকে গলার কাছ ধরে আটকে রাখা হয় এবং পুলিশের হাতে থাকা এক পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়—এবং সোহেলও তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন সোহেলকে পরিচয়পত্র দেখাতে বললে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হলে তাকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়রা জানান, সোহেল গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় বসতবাস করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত।

ঘটনায় আহত নাঈমের বড় ভাই সাব্বির হাসান খুলশী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন; অভিযোগে সোহেলকে তিন নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অপর দুজন হলেন এসআই শফিক এবং কনস্টেবল রাসেল—যাদের দুজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাব্বির আরো জানান, ঘটনার পর গভীর রাতে যখন তাদের বাবা থানায় গেলে তাকে প্রায় ১৫ মিনিট বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং ভিতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের প্রতিবাদের পরে বাবা থানায় ঢুকলে দেখা যায়, সোহেল ওসির পাশে বসে ছিলেন এবং তাকে আশ্রয় বা বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছিল বলে তাদের অভিযোগ।

কমিশনার শওকত আলী বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ গৃহীত হবে।