ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

পশ্চিমবঙ্গে গৃহপরিচারিকাকে প্রতিমন্ত্রী করে চমক বিজেপির

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছে — আর সেখানে জায়গা দিয়ে রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করেছে একটি অসামরিক পরিচয়: গৃহপরিচারিকা কলিতা মাজিকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

কলিতা মাজি বর্ধমান জেলার আউসগ্রামের বাসিন্দা। নির্বাচনের আগে পর্যন্ত তিনি অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন—এক, দুই নয়, মোট সাতটি বাড়িতে কাজ করতেন তিনি। মনোনয়ন পাওয়া পরেও যুগজুগ ধরে তিনি দুইটি বাড়িতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, পরে বাড়ির মালিকরা রাজনীতিতে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিলে তিনি পরিচারিকার কাজ ছেড়ে প্রচারে নামেন।

কলিতা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একই আসনে লড়ে পরাজিত হন। এবার তিনি আবার মনোনয়ন পান, কিন্তু তৃণমূল প্রার্থীর কাছে প্রায় ১২ হাজার ভোটে হেরে যান। নির্বাচনের পরও রাজ্য সরকার গঠনের সময় তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদে অন্তর্ভুক্ত করে বিজেপি।

ব্যক্তিগত জীবনে কলিতার শখভরা স্বভাব, মিষ্টভাষী ও সদা হাসিমুখ—এমনটাই বলে স্থানীয়রা। ২০০৬ সালে তিনি সুব্রত মাজির সঙ্গে বিয়ে করেন; এক বছর পর তাদের এক ছেলে জন্ম নেয়। সুব্রত কলার মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। পরিবার চরিত্রগতভাবে তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে—স্বামী ও শ্বশুর নিজে সংসার সামলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে উৎসাহ দিয়েছেন। তবে দুঃখ প্রকাশ করে কলিতা জানায়, ২০২৬ সালের জয়ের খবর দেখার আগেই তাঁর শ্বশুর জীবনমৃত্যু বরণ করেছেন; সেটি তাঁর কাছে এক বড় আক্ষেপ রয়ে গেছে।

কলিতা সাংবাদিকদের জানান, ‘‘স্বপ্নেও ভাবিনি আমি মন্ত্রী হব। সবই ঈশ্বরের ইচ্ছা। আমার চেষ্টা থাকবে এলাকার ও রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করা, মা-বোনদের দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।’’

এ বছরের নির্বাচনে বিজেপি অন্তত পাঁচজন চলচ্চিত্র তারকাকে বিধায়ক হিসেবে জয়ী করে — রুদ্রনীল ঘোষ (শিবপুর, হাওড়া), রুপা গঙ্গোপাধ্যায় (সোনারপুর দক্ষিণ), হিরণ চট্টোপাধ্যায় (শ্যামপুর, হাওড়া), পাপিয়া অধিকারী (টালিগঞ্জ, কলকাতা) ও শর্বরী মুখার্জি (যাদবপুর, কলকাতা)। নির্বাচনের পরে গুঞ্জন উঠেছিল যে কিছু তারকাকেও মন্ত্রিসভায় নেয়া হতে পারে; তবে মন্ত্রিসভা ঘোষণায় কেউকে জায়গা দেয়া হয়নি। বিজেপি সূত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভায় জায়গা একেবারেই রাজনৈতিক প্রার্থী ও পার্টির প্রয়োজন অনুযায়ী দেয়া হয়েছে।

কলিতার মন্ত্রিত্ব নিয়ে আজ রাজ্যজুড়ে আলোচনা–সমালোচনা দুইই চলছে। তার অনন্য জীবনকাহিনি ও সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকা ভাবনা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে; আবার কিছু মহলে হুবহু রাজনৈতিক প্রতিরূপ ও যোগ্যতা সংক্রান্ত প্রশ্নও উঠছে। রাজ্যের উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নকে কেন্দ্র করে কলিতার ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডই শেষ পর্যায়ে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে।