ইরানের ইসলামী বিপ্লবের স্থপতি ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্ব গ্রহণের বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিশেষ বার্তা দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক ময়দানে পরাজয়ের পর ইসরায়েল ও তার মিত্ররা এখন ভিন্ন পথে গিয়েছে — তারা জনগণের প্রত্যাশা ও আস্থা নষ্ট করে, কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ও সমাজে বিতর্ক ও বিভাজন ছড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে।
মোজতবা খামেনি বলেন, শত্রুপক্ষ এখন সন্দেহ, ভয়, হতাশা, অবিশ্বাস এবং বিভেদ ছড়ানোকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই দেশজুড়ে ঐক্য, সতর্কতা ও পারস্পরিক আস্থাকে শক্ত রাখতেই হবে। জনগণকে জোরদার আস্থা ও জাতীয় সংহতি বজায় রেখে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা বাড়ানো এবং সামাজিক হতাশা কিংবা অসন্তোষ সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে কর্মকর্তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। সরকারি ও সমাজিক সকল স্তরে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে হবে যাতে শত্রুর সুফল হাসিল না হয়।
অনুষ্ঠানে ইমাম খোমেনির সমাধিসৌধে তার লেখা ও ভাষণকে জাতির ভবিষ্যতের জন্য অমূল্য পথপ্রদর্শক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বার্তাটি হোজ্জাতোলেসলাম মোহাম্মদ জাভেদ হাজ আলী আকবারি পাঠ করে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিতদের উদ্দেশে তুলে ধরেন। বার্তায় ইমাম খোমেনি ও সম্প্রতি শহীদ হওয়া নেতাদের আদর্শ ও দিকনির্দেশনা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
মোজতবা খামেনি তার লিখিত বার্তায় বলেন, ইমাম খোমেনির চিন্তাধারা আল্লাহর জন্য জাগরণের নীতি থেকে প্রেরিত ছিল, যা ইসলামী বিপ্লব ও জাতির উল্লেখযোগ্য অর্জনের মূল চালক শক্তি ছিল। ইমাম ও অন্যান্য শহীদ নেতারা জনগণের ক্ষমতা জাগ্রত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গণ-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছেন।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়েও মন্তব্য করে তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ নেতাদের স্মরণে ইরানি জাতি তার অঙ্গীকার ও দৃঢ়সংকল্প পুনরায় প্রদর্শন করেছে; লাখ লাখ মানুষ ইসলামী ব্যবস্থাকে রক্ষা করা, শহীদদের সম্মান জানানো এবং বিপ্লবের মূলনীতিগুলো পালন করতে অটল রয়েছে।
বার্তা শেষে মোজতবা খামেনি তরুণ, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ইমাম খোমেনির আদর্শকে এগিয়ে নিতে এবং ইরানের ভবিষ্যত উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার তাগিদ জানান।
সূত্র: আইআরএনএ, আনাদোলু




