ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

হাদি হত্যাকাণ্ডে মন্তব্য: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় বৃহস্পতিবার এই মামলা করেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ জুন কলকাতার রাসমণি রোডে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিতমূলকভাবে উল্লেখ করেন, যদিও তিনি সরাসরি কোনো ব্যক্তির নাম বলেননি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকেই লক্ষ্য করা হয়েছে।

সম্মেলনে মমতা বলেন, “বাংলাদেশের এক ‘বড় খুনি’ মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেফতার করেছিল, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে বলেছেন, “আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার।” অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? … আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।”

মামলাকারীর অভিযোগ, একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর মাত্রা অতিক্রম করা এসব মন্তব্য ভারতের স্বার্থ ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় আবারও দাবি করেন যে, মমতা মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া কথোপকথনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন, যা ‘মৌলবাদীদের উসকে’ দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।

ফলস্বরূপ, মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৫২, ১৫৩, ১৫৩(এ), ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২, ৩৫৩ সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিবরণে বলা হয়েছে যে ধারা ১৫২ একটি ফৌজদারি বিধান যা দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতাকে ক্ষুন্নকারী কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে ধারণ করে এবং এতে জামিনযোগ্যতা সীমিত থাকতে পারে।

রিঙ্কি সিং বলেন, মমতার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত অবিলম্বে প্রয়োজন। তিনি জানান, হাইকোর্ট ৮ জুন খুললে তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দাবি করবেন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস