কিছু দিন আগেও প্রশ্ন ছিল—আসন্ন বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি খেলবেন কি না। সব জল্পনা কেটে এবার তিনি বিশ্বকাপে নিশ্চিত অংশ নিচ্ছেন। এ বছরে মেসি কেবল খেলা দিয়েই ছোট্টো খবর বানাবেন না; ইতিহাসও বদলে ফেলতে পারেন। এখানে পাঁচটি বড় রেকর্ড উপস্থাপন করা হলো, যেগুলো ভাঙতে বা উন্নীত করতে পারেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।
১) বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড আরও বাড়ানো
মেসির হাতে ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড আছে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ মিলিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন। এই টুর্নামেন্টে খেললেই সেই সংখ্যা বাড়বে—রেকর্ডকে আরও দৃঢ়ভাবে নিজের দখলে করে নিতে পারেন তিনি।
২) ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলা
এবার মেসি নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নামছেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকোর গোলরক্ষক গুলেরমো ওচোয়া-ও ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছেন। এই টপকে থাকা অনন্য তিনজনের তালিকায় বার একবার আরও নাম জুড়তে পারে মেসির।
৩) বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড ভাঙা
মেসির বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা এখন ১৩। ইতিহাসের শীর্ষে আছেন জার্মান ফরওয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসা, যেকাঁর ১৬টি গোল রয়েছে। মাত্র চারটি গোল করলেই মেসি ক্লোসাকে ছাপিয়ে যাবেন। গ্রুপ পর্ব থেকেই তাই চমক দেখাতে পারেন তিনি।
৪) পাঁচটি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করা
মেসি ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গোল করেছেন; ২০১০ সালে কোনো গোল ছিল না। যদি এই বছর গোল করেন, তাহলে তিনি রোনালদোর পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হয়ে উঠবেন যে পাঁচটি পৃথক বিশ্বকাপে গোল করেছে। এটি কৃতিত্বে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
৫) World Cup-এ অ্যাসিস্ট ও অধিনায়কের কীর্তি
মেসির নামেই বিশ্বকাপে আটটি অ্যাসিস্ট রয়েছে—এই সংখ্যায় তিনি আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে শীর্ষে আছেন। এ টুর্নামেন্টে আর একটি অ্যাসিস্ট করলে তিনি এককভাবে শীর্ষে উঠে আসবেন; দুইটি করলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের মালিকও হতে পারেন।
অধিনায়ক হিসেবেও মেসির সামনে বড় সুযোগ আছে। ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় অধিনায়ক হয়ে দুইবার বিশ্বকাপ জিতেননি—যদি মেসি এবারের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হন, তাহলে অধিনায়ক হিসেবে দু’বার বিশ্বকাপ জেতার কীর্তি প্রথমবারের মতো তার নামে লেখা যেতে পারে। পাশাপাশি ২০১৪ ও ২০২২ সালে তিনি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন; এবার দল যদি আবারও ফাইনালে উঠে, তাহলে তিনটি পৃথক বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে ফাইনালে দলকে নেওয়ার অনন্য রেকর্ডও তাঁর নজিরে বাড়বে।
মোটকথা, মেসির জন্য এই বিশ্বকাপ কেবল টিকিট কাটার বা খেলা দেখানোর লড়াই নয়—এটা ইতিহাস লিখার সুযোগও। গতবারের ট্রফি রক্ষা সহ নিজের ব্যক্তিগত ও জাতীয় গৌরব আরও উজ্জ্বল করতে তিনি মাঠে নামছেন।




