বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের বিআইসি সার ডিলার মেসার্স ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর আটককৃত ৫০ বস্তা সার অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি শনিবার নয়—এটি ঘটে বুধবার (৩ জুন) বেলা বারোটার দিকে, যখন সারগুলো মোল্লাহাটের চুনখোলায় পাঠানোর সময় আটক করা হয়।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, চিতলমারীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিধান রানা ও শাহ নেওয়াজ মাছুয়ারকুল এলাকায় সার যাচ্ছে এমন খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে মোল্লাহাটের দিকে নিচ্ছিল সারগুলো দেখতে পান। সন্দেহ হলে তারা চালকের কাছে ক্যাশমেমো দেখার অনুরোধ করলে চালক তা দেখাতে ব্যর্থ হন। তখন থেকেই ওই ৫০ বস্তা সার আটক করেন তারা।
আটক সারগুলোতে ছিল ৪০ বস্তা টিএসপি, ৮ বস্তা ডিএপি ও ২ বস্তা ইউরিয়া। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন যে দ্রুতই ঘটনাটি ঢাকতে আটককৃত সারগুলো মোল্লাহাটের একজন ব্যবসায়ী অরজিত মন্ডলের কাছে বিক্রি দেখানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিষয়টি জানাজানি হলে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পিছনের সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর মালিক ও বড়বাড়িয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক এস এম আব্দুল হক দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মোল্লাহাটের চুনখোলা বাজারের এক ব্যবসায়ীর কাছে সার পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন। ওই বুধবার তিনি নছিমন নামের এক চালকের মাধ্যমে উক্ত সারগুলো পাচার করছিলেন।
আক্রান্তদের দাবি ও প্রশাসনের ব্যাখ্যা ভিন্ন। ভুক্তভোগী বা প্রতিবেদনকারীদের বরাত দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সার আটকের পর তা অরজিত মন্ডলের কাছে বিক্রি দেখানো হয় যাতে ঘটনাটি তলিয়ে যায়। চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সিফাত-আল-মারুফ বলেন, “এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নের খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রির নিয়ম নেই। এটা অবৈধ ও নিয়ম বর্হিভূত।”
অভিযোগের মুখে এস এম আব্দুল হক বলেন, “আমি অরজিতের কাছে সার বিক্রির প্রায় ৫ লাখ টাকা পাব। সে আমার নিয়মিত কাস্টমার। মোল্লাহাটে সার বিক্রির কথাই ওঠে না।” অন্যদিকে চিতলমারীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিধান রানা জানান, “সন্দেহ হলে আমরা ৫০ বস্তা সার আটক করি। পরে ডিলার আব্দুল হক ক্যাশমেমো নিয়ে এলে আটককৃত সার অরজিতকে দিয়েছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি খাদিজা আক্তার জানান, এ বিষয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি; তিনি কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে খোঁজ নিচ্ছেন।
ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি অফিসের তদন্তে কবে স্থির হবে তা এখনও জানা যায়নি। তবে স্থানীয়রা যথেষ্ট উদ্বেগ জানিয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছে।




