ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

তিন মাসে খেলাপি ঋণ বাড়ল ৩১,৪৮৮ কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত তিন মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে। ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা; মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় — অর্থাৎ তিন মাসে বাড়ি হয়েছে ৩১,৪৮৮ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে খেলাপি ঋণের হারও বাড়েছে — গত তিন মাসে খেলাপি হার ১ দশমিক ৬৬ শতাংশপয়েন্ট বেড়েছে। (গত বছরের ডিসেম্বরে খেলাপির হার ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ।)

মার্চে দেশে বিতরণকৃত মোট ঋণের পরিমাণও বাড়েছে ৩১,৪৮৭ কোটি টাকায়; মোট ঋণের স্টক এখন দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকায়। যদিও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সবচেয়ে নীচুতে নামলেও, সুদের যোগ হওয়ার ফলে মোট ঋণের পরিমাণ বাড়ার ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সহায়তার মাধ্যমে বহু ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করে দিচ্ছে। বিশেষত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনেক প্রার্থী তাদের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করে নিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘খেলাপি ঋণ আদায় যতটা হওয়া উচিত ছিল তা হয়েছে না। একই সময়ে খেলাপি ঋণের ওপর সুদ যোগ হওয়ার কারণে পরিমাণ আরও বেড়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘নীতি সহায়তার আওতায় যারা ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন তাদের দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে; তাই বর্তমান সময়ে আদায় ধীর। দুই বছর পর ধারাবাহিকভাবে আদায় বাড়বে। নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা ঋণ রিশিডিউল করেছেন, তাদের মধ্যে অনেকে মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়েছেন।’

তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে খেলাপি ঋণের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে — তখন মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছিল; টাকার হিসেবে যা ছয় লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার মত ছিল। পরবর্তী বিশেষ নীতি সহায়তার মাধ্যমে ডিসেম্বরে বড় অংকের কয়েকটি ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু তিন মাসের মধ্যে তা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে।