ঢাকা | শনিবার | ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালার অংশকে ‘সরস্বতী মন্দির’ ঘোষণা, নামাজের জন্য অন্য জায়গা চেয়ে নিতে নির্দেশ

মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের প্রায় হাজার বছরের পুরনো ভোজশালা—যেখানে কামাল মাওলার দরগা ও মসজিদ রয়েছে—সংশ্লিষ্ট অংশকে সরস্বতী মন্দির বলে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই ভার্চুয়ালে আদালত মুসলিম পক্ষকে রাজ্য সরকারের কাছে নামাজের জন্য ভিন্ন জায়গা চেয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

ভোজশালা-কামাল মাওলার দরগা ও মসজিদকে ঘিরে বহু বছর ধরেই তীব্র বিতর্ক চলে আসছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো দাবি করেছিল, এখানে গণরাজ্যকালের রাজা ভোজের সময় নির্মিত প্রাচীন সরস্বতী মন্দির ছিল; অপরদিকে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ওই স্থাপত্যটিকে কামাল মাওলা মসজিদ বলে মর্যাদা দিয়েছেন।

রাজ্য সরকার আগে থেকেই বিভেদ রোধে ব্যবস্থা নিয়েছিল—মঙ্গলবার হিন্দুদের পুজো ও শুক্রবার মুসলিমদের নামাজের অনুমতি এবং সপ্তাহের অন্যান্য দিন দর্শনার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থা ছিল। ২০২২ সালে কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন, যার মধ্যে ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’ রয়েছে, মসজিদে মুসলিম নামাজ থামাতে আদালতে আবেদন করে।

এ দাবি পেশের পর ২০২৪ সালে হাইকোর্ট আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-কে ওই এলাকায় বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেয়। এএসআই ৯৮ দিনের সমীক্ষা করে আদালতে প্রায় দু’হাজার পাতার একটি প্রতিবেদন জমা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত অংশের নীচে ও আশপাশে পারমার বংশের আমলে নির্মিত বড় এক কাঠামোয়ের অবশেষ রয়েছে।

শুক্রবার বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থীর বেঞ্চ হিন্দু পক্ষের পক্ষে রায় দেন। রায়ে বলা হয়েছে, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ও ঐতিহাসিক স্রোত বিশ্লেষণে পুনরাবৃত্তভাবে দেখা গেছে যে ওই স্থানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনও থেমে যায়নি এবং ঐতিহাসিক গ্রন্থে সেই এলাকায় রাজা ভোজের শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমের উল্লেখ আছে—এতেই অংশটিকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালত জানিয়েছে, ভোজশালার মন্দির ঘোষিত অংশের সংরক্ষণ ও রক্ষণের তত্ত্বাবধান করবে এএসআই এবং এই বিষয়ে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। হিন্দু আবেদনকারীরা লন্ডনের একটি জাদুঘর থেকে সরস্বতীর মূর্তি এনে ভোজশালায় স্থাপন করতে চেয়েছেন; কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত একাধিক আবেদন জমা পড়েছে এবং আদালত বলেছেন, কেন্দ্র সেই আবেদনগুলো বিবেচনা করতে পারে।

বিচারপতিরা মুসলিম পক্ষকে নামাজ পড়ার জন্য রাজ্য প্রশাসনের কাছে বিকল্প স্থান চেয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন—যাতে ভবিষ্যতে সংঘাত এড়ানো যায়। অপরদিকে মুসলিম পক্ষ এবং তাদের সমর্থকরা আদালতের রায় ও এএসআই প্রতিবেদনে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক তমাম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে; বিচারিক সিদ্ধান্তের পর আলোচনার জোরও বেড়েছে। মামলার প্রতিবেদন ও রায়ের সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার।