ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শাপলা হত্যাকাণ্ড: ঢাকায় ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে—চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে ঘটেছিল এমন শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে আছে এবং ঢাকায় অন্তত ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন রোববার (৩ মে) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তবে তদন্ত এখনই শেষের জন্য চূড়ান্ত সংখ্যা বলা যাচ্ছে না, কারণ পরবর্তী যাচাই-বাছাই এখনও বাকি রয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে বলা যায়, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম শহরে বড় ধরনের অবস্থান কর্মসূচি করে। হেফাজত তাদের ১৩ দফা দাবি তুলে ধর্ম নিয়ে ক্ষোভের অভিযোগ তুলেছিলেন এবং কয়েকজন ব্লগারের বিরুদ্ধে কটুক্তির অভিযোগও এনেছিলেন।

তৎকালীন সময়ে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী—পুলিশ, র‍্যাব এবং বিজিবি—মিলে শাপলা চত্বর থেকে অবস্থানকারীদের উঠিয়ে দেওয়ার অভিযান চালায়। ট্রাইব্যুনালের তদন্তে বলা হচ্ছে, সেই অভিযানে ঢাকায় অন্তত ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

এ মামলায় হেফাজতের একাধিক নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়; অভিযোগের মধ্যে ছিলেন হেফাজত নেতা আজিজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ও মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখের নাম।

গত ৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল একবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় দুই মাস বাড়িয়েছিলেন। বর্তমানে তদন্তকারীর দল চূড়ান্ত প্রমাণ-জট কাটিয়ে রিপোর্ট দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুসারে, তদন্তে যে প্রমাণগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো স্বচ্ছতার সাথে উপস্থাপন করা হবে; তবে পুরো ঘটনার প্রকৃত পরিসর ও হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা জানতে হলে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।