ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর তিন দিনের রিমান্ড

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকেকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (৩ মে) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলাম এই আদেশনামা জারি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসু দোয়া সুমন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিষয়টি তদন্ত করছেন বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন। তিনি গত বুধবার আদালতে আসামি সুদীপের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড শুনানি রোববার অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে জানিয়েছে, ঘটনার পর ভিকটিমের বাবা রাতে একটার দিকে একটি চ্যাট দেখার পর অভিযোগ করেছেন। তদন্তে ওই চ্যাট পরীক্ষা করলে ভিকটিম ও আসামির মধ্যে সম্পর্কের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন — তাদের আর্জি ছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সুদীপের কাছে ভিকটিমের বন্ধু হানি ও অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল এবং প্রশাসন বলেছে এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপুর্ণ।

অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তারা আদালতে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড চাওয়ার পক্ষে কটু প্রমাণ উপস্থাপন করেননি এবং ডিজিটাল তথ্য কিছুও কখনো কখনো ম্যানিপুলেশনযোগ্য হতে পারে। আসামিপক্ষ পেনড্রাইভে ভিকটিমের মা ও বান্ধবীর একটি ২১ মিনিটের অডিও রেকর্ডিং জমা দেন, যার দাবী— সেখানে বান্ধবী মাকে জিজ্ঞেস করছিলেন ‘এখনো কি মিমো ব্লেড দিয়ে শরীর কাটে?’—এসব থেকে বোঝা যায় ভিকটিম মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন।

আসামিপক্ষ আরও বলেন, ভিকটিমের আগে একটি বিয়ে ছিল এবং তিনি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কেও জড়িত ছিলেন; প্রায়ই জুনিয়র ছেলেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হতো—এসব কথোপকথন তাদের দাখিল করা অডিওতে রয়েছে। এজন্য অভিযুক্ত সুদীপ কেবল পারিবারিক অনুরোধে তাকে মানসিকভাবে সহায়তা করতেন এবং নির্দেশগতভাবে আলাদা নজরদারি বা ‘সফট কর্ণার’ রাখতেন। তার পক্ষে বলা হয়, সুদীপ একজন মেধাবী শিক্ষক এবং তিনি নির্দোষ; তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তা জেলগেটে করলেই হবে, রিমান্ডের প্রয়োজন নেই—তারা বলেছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মিমোর সঙ্গে সুদীপের ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং ঘটনার আগে (২৬ তারিখ রোববার) মিমোর সঙ্গে একটি ভিডিও কলে কথা হয়—সেখান থেকেই আত্মহত্যার প্ররোচনার সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। গ্রেপ্তারের সময় আসামির কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই ও মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ড আবশ্যক বলে জানানো হয়।

ঘটনার ভুক্তভোগী মুনিরা মাহজাবিন মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে বাড্ডার বাসায় থাকতেন। নিজের কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়; চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও পাওয়া যায়, যেখানে লেখা ছিল— “সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া…”।

বিকালে নিহতের বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ সুদীপকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এখন তদন্তকারীরা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিজিটাল এবং বাকি প্রমাণ যাচাই করে ঘটনার সূচনালগ্ন ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের চেষ্টা করবেন।