ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শাশুড়িকে হত্যার পরে মরদেহ বস্তায় ভরে লুকিয়েছিলেন পুত্রবধূ

যশোরের বেজপাড়া এলাকায় পারিবারিক সমস্যা ও শাসনের জের ধরে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০) শাশুড়িকে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য জানান। এর আগে, মঙ্গলবার গভীররাতে নিজ বাড়ির সামনে থেকে ওই বৃদ্ধার বস্তাবন্দি মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। নিহত সকিনা বেগম (৬০) লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী এবং বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল প্রায় ৯টার দিকে দোকানে যান। যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম জানায়, আজ কিছুই রান্না হয়নি, বাইরে খেয়ে ফিরে আসার জন্য বলে। এরপর শহিদুল বাড়ি ফেরার পর মাকে খুঁজতে গিয়ে জানতে পারেন, তিনি বাড়ির মধ্যে থাকছেন না। বিকেলে ফিরে এসে আবার মাকে খুঁজতে থাকেন, তখন তার স্ত্রী জানায়, সকিনা বেগম বাসায় ফিরেননি। এই কথা সন্দেহজনক মনে হলে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। এরপর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি বস্তার মধ্যে মরদেহ দেখতে পান। পরে তার ভাই-বোনও মরদেহ শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে ডিবি ও কতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তে দেখা যায়, মরিয়ম বেগমের আচরণে সন্দেহের অবকাশ থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে, সে স্বীকার করে নেয়, পারিবারিক বিবাদের কারণে প্রচণ্ড ক্ষোভে পড়ার দিনই শাশুড়িকে চাপাতি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে ফেলে রাখে এবং হত্যা করা অস্ত্রটি ঘরের ওয়্যারড্রপের ভেতরে লুকিয়ে রাখে।

অভিযোগকারী মরিয়মের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ঘর থেকে হত্যার জন্য ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। এই মামলায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।