ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশা ভোঁসলের প্রয়াণে রুনা লায়লার শোক

ভারতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগীতাঙ্গনে। রোববার (১২ এপ্রিল) ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসে মাত্রই উপমহাদেশের বরেণ্য কণ্ঠশিল্পীরা, সহকর্মী ও ভক্তরা গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশি কিংবদন্তি গায়িকা রুনা লায়লাও—যিনি আশা দিদিকে হারিয়ে গভীরভাবে আহত বলে জানান।

রুনা লায়লা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি পরপর চলে গেলেন। লতা মঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গিয়েছিলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।’

নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—মায়ের মতো। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার শেষ দেখা হয়েছিল আমার সুর করা গান “চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি”-এর রেকর্ডিংয়ের সময়। এরপর ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম—আবার কথা বলব, আজ করব, কাল করব—সব সময় তাই ভেবেই শেষমেশ হয়নি। শেষ কথাটাও বলা রইল।’

রুনা লায়লা আরও নীরাশা কণ্ঠে বলেন, ‘যদি তখনই ফোন করে দিদিকে জিজ্ঞেস করে নিই, হয়তো আজ এই আফসোসটা এতটা তীব্র হত না। নিজের ভেতরে এত কষ্ট হচ্ছে—এটা সত্যিই ভাষায় বলা সম্ভব নয়।’

আশা ভোঁসল শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। চিকিৎসা সত্ত্বেও রোববার তাঁর মৃত্যু ঘটে। টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় গানে রাজত্ব করেছেন—হাজার হাজার গান আর একাধিক কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি বহু প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর প্রয়াণকে অনেকেই একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন।