ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চার দিনের সর্বভৌম কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামিসহ ১১ দলীয় জোট।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছে এবং সংস্কারসংক্রান্ত আগে থেকে হওয়া ঐকমত্যকে ধীরে ধীরে নষ্ট করা হচ্ছে।

মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থা একদলীয় ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং যারা সরকারের সমালোচনা করছেন তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই নব্য ফ্যাসিবাদকে যে কোনো মূল্যে রুখে দেবে ১১ দলীয় ঐক্য।

জোটের কার্যক্রম সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোট রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ শুরু হবে। ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করা হবে এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোট রায় বাস্তবায়নের পক্ষে জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে নেমে আন্দোলন করার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডে জাতি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছে; গণভোটের রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট ইতিমধ্যেই স্থগিত রয়েছে এবং সংসদে একক ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি সংবিধান নিয়ে সংকট তৈরি করছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না এবং যারা দিল্লির আগ্রাসনবিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন, তাদের নাম করে রাজাকার হিসেবে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

জোটের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কিন্তু জোরালো কর্মসূচি চালিয়ে যাবে এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রতিরোধ বজায় রাখবে।